হযরত উমর (রাঃ) এর ন্যায় বিচার এর ঘটনা বিস্তারিত

হযরত উমর (রাঃ) এর ন্যায় বিচার সম্পর্কে আমি "Islamic Solution - ইসলামিক কথা" এই ওয়েবসাইটে সুন্দর করে সাজিয়ে একটি পোষ্ট করছি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরেই এই বিশ্বে যারা ন্যায়বিচারের শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে পেরেছেন, ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের মধ্যে অন্যতম। উনাকে আমিরুল মুমিনিন বা মুমিনদের নেতা বলে ডাকা হতো। মরক্কোর রাবাত থেকে ইন্দোনেশিয়া জাকার্তা পর্যন্ত ছিল তার রাজত্ব। শাসক হিসেবে তিনি যেমন শ্রেষ্ঠ ছিলেন, বিচারক হিসেবেও তিনি তেমন তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী ছিলেন। কয়েকটি ঘটনার মাধ্যমে আমরা ওমর বিন খাত্তাব এর বিচারিক দক্ষতা জানার চেষ্টা করব।

হযরত ওমর রাঃ এর জীবনী,হযরত ওমর (রাঃ) এর মৃত্যুর ঘটনা,ওমর (রাঃ) এর ন্যায় বিচার,হযরত আলী (রাঃ) এর বর্ম হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা,হযরত আলী (রাঃ) এর বিচার,খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) এর অনন্য বিচারব্যবস্থা,ওমর রাঃ এর জীবনী,খলিফা ওমর ফারুক (রাঃ) এর ঘটনা,ন্যায় বিচার,হযরত ওমর (রাঃ) এর শাসন আমল,হযরত ওমর (রাঃ) এর ঈদের শপিং,খলীফা হযরত ওমর রাঃ এর জীবনে চমৎকার একটি ঘটনা,উমর রঃ এর ঘটনা,হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) এর জীবনী,ওমর রাঃ এর ঘটনা,ওমর রাঃ এর বিচার,ওমর (রাঃ) এর জীবনী

হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও গভর্নর হরমুযান

পারস্যের নাহাওয়ান্দ্র প্রদেশের গভর্নর হরমুযান ইসলামের একজন কট্টর দুশমন ছিল। সে মুসলমানদের সাথে পারস্যের যুদ্ধ বাধানোর প্রধান হোতা ছিল। সে নিজেও খুবই শৌর্য-বীর্যের সাথে যুদ্ধ করেছিল। অবশেষে হরমুযান মুসলমানদের হাতে ধরা পড়ে ও কারাবন্দি হয়। কারাবন্দি হবার পর সে ভেবেছিল এবার আর তাঁর রেহাই নেই। মুসলমানরা হয় তাকে দাস হিসেবে বিক্রি করে দিবে নচেৎ মৃত্যুদণ্ড দিবে। কারণ তার অতীত কার্যকলাপ দ্বারা সে মুসলমানদের সাথে নিজের সম্পর্ক খুবই খারাপ করে ফেলেছিল। কিন্তু তাঁকে এই দুই শাস্তির কোনটাই দেওয়া হলো না। তাকে কিছু করের বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হল। হরমুযান নিজের রাজধানীতে ফিরে এলো, তৎক্ষণাৎ আরও দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে বিদ্রোহী তৎপরতা শুরু করল এবং এক বিরাট সেনাবাহিনী নিয়ে মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ করতে ফিরে এলো। এবারও হরমুযান ধরা পড়ে বন্দি হল।

হরমুযানকে পাকড়াও করে যখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে নিয়ে আসা হল তখন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার উপদেষ্টা দের সাথে পরামর্শ করছিলেন। বন্দী হরমুযান তার মৃত্যুদন্ড সম্পর্কে এবার প্রায় নিশ্চিত ছিল। প্রতি মুহূর্তে সে তাই মৃত্যুর আশঙ্কা করছিল। সহসা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি নাহাওয়ান্দ্রের বিদ্রোহী গভর্নর? হরমুযান উত্তর দিলো জ্বি আমি সেই। হযরত ওমর জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি সেই ব্যক্তি যে বারবার মুসলমানদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে? হরমুযান উত্তর দিলো জ্বি আমিই। হযরত ওমর আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ এ ধরনের শাস্তি যে মৃত্যুদন্ড তা তুমি জানো? হরমুযান আবার বললো জ্বি জানি। হযরত ওমর আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ বেশ, তাহলে তুমি এই শাস্তি এখনি নিতে প্রস্তুত? হরমুযান উত্তর দিলো আমি প্রস্তুত। তবে মৃত্যুর পূর্বে আপনার নিকট আমার একটিমাত্র আবেদন আছে।

আরও পড়ুনঃ

আমি খুবই পিপাসা বোধ করছি। আমি এক গ্লাস পানির চাইতে পারি? হযরত ওমর বললেনঃ অবশ্যই। এই সময় হযরত ওমরের নির্দেশে তাকে এক গ্লাস পানি দেওয়া হল। হরমুযান বললঃ আমিরুল মুমিনিন, আমি আশঙ্কা করছি যে, আমি পানি খাওয়ার সময়েই আমার মস্তক ছিন্ন করা হতে পারে। হযরত ওমর বললেন কখনোই নয়। তোমার এই পানি খাওয়া শেষ হবার আগে কেউ তোমার চুলও স্পর্শ করবে না। হরমুযান একটু থেমে উত্তর দিলো আমিরুল মুমিনিন, আপনি আমাকে কথা দিয়েছেন যে আমি এই পানি খাওয়া শেষ না করা পর্যন্ত আপনারা আমার চুলও স্পর্শ করবেন না। আমি এই পানি পান করব না। এই বলেই সে পানি ঢেলে ফেলে দিল। এখন আপনি আমাকে হত্যা করতে পারেন না। হযরত ওমর মুচকি হেসে বললেনঃ ওহে গভর্নর এটা তোমার চালাকি। যাইহোক ওমর যখন কথা দিয়েছে তখন সে তার কথা রাখবেই। যাও তুমি মুক্ত।  এর কিছুকাল পরে একদিন হরমুযান একদল সঙ্গী পরিবেষ্টিত হয়ে আবার মদিনায় এল এবং হযরত ওমর এর সাথে সাক্ষাৎ করল। সে বললঃ ❝আমিরুল মুমিনিন, এবার আমি নতুন জীবনের সন্ধানে এসেছি। আমাদের সবাইকে ইসলামের দীক্ষিত করুন।❞  এবং পরবর্তীতে তারা সবাই ইসলাম গ্রহণ করল। 

হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনে প্রজাদের সম-অধিকার

মিশর বিজয়ী সেনাপতি আমর ইবনুল আস তখন মিশরের গভর্নর। তার শাসনে মিশরের জনগণ বেশ শান্তিতেই কাটাচ্ছিল। কিন্তু তার একটা বেয়াড়া ছেলে তার ন্যায়-পরায়নতার সুনাম প্রায় নষ্ট করতে উদ্যত হয়েছিল। সে যখনই পথে বের হতো, সবাইকে নিজের চালচলন দ্বারা বুঝিয়ে দিত যে, সে কোন সাধারন মানুষ নয় বরং গভর্নরের ছেলে। একদিন সে জনৈক মিশরীয় খ্রিস্টানের ছেলেকে প্রহার করল। দরিদ্র খ্রিস্টান ব্যক্তিটি মিশরীয় গভর্নরের কাছে তার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস পেল না। তাই নিরবে হজম করল। কয়েকদিন পর তার জনৈক প্রতিবেশী মদিনা হতে ফিরে এসে জানালো যে, খলিফা ওমর অত্যন্ত ন্যায় পরায়ণ শাসক। তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করেন এবং কেউ কারো উপর জুলুম করেছে জানলে কঠোর শাস্তি দেন। এই কথা শুনে ওই মিশরীয় খ্রিস্টান একটি উটের পিঠে চড়ে দীর্ঘ ১৭ দিন চলার পর মদিনায় খলিফার কাছে পৌঁছাল এবং গভর্নরের ছেলের বিপক্ষে মোকদ্দমা দায়ের করল। 

হযরত ওমর তৎক্ষণাৎ হযরত আমর ইবনুল আস এবং তার ছেলেকে মদিনায় ডেকে আনলেন। অতঃপর বিচার বসল। সাক্ষ্য প্রমাণ দ্বারা হযরত আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুর ছেলে দোষী প্রমানিত হল। খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু অভিযোগকারীর ছেলেকে দেখিয়ে বললেন, সে তোমাকে যেভাবে যে কয়বার মেরেছে তুমিও সেই কয়বার মারো। ছেলেটি যথাযথভাবে প্রতিশোধ নিলো। তারপর খলিফা বললেন, “প্রজারা শাসকের দাস নয়। শাসকরা প্রজাদের সেবক। প্রজারা ঠিক তেমনি স্বাধীন যেমন তাদের মায়ের পেট থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় স্বাধীন।” 

হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ন্যায় বিচারের আরেকটি উদাহরণ

একবার কিছু সুগন্ধি দ্রব্য বাহরাইন থেকে হযরত ওমরের নিকট পাঠানো হলো। তিনি সমবেত জনতা কে লক্ষ্য করে বললেন, "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে এই সুগন্ধি দ্রব্যটিকে মেপে সমান ভাগ করে মুসলমানদের মধ্যে বন্টন করতে পারে?" তার স্ত্রী হযরত আতেকা বললেন: "আমিরুল মুমিনিন আমি পারবো।" হযরত ওমর বললেনঃ আতেকা ছাড়া আর কেউ কি আছে? হযরত আতেকা বললেন: আমিরুল মুমিনিন আমি মেপে দিলে অসুবিধা কি? হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমার আশংকা হয় যে মাপার সময় তুমি জিনিসটি হাত দিয়ে ধরবে এবং তোমার হাত সুবাসিত হয়ে যাবে। অতঃপর সেই সুবাসিত হাত তুমি মুখে মেখে নিবে এবং সুগন্ধি উপভোগ করবে। অন্যদের চাইতে এতোটুকু বাড়তি সুবিধা তুমি পেয়ে যাও, তা আমি পছন্দ করিনা। 

রাখাল বালকের খোদাভীতি ও হযরত উমর (রাঃ)

একবার হযরত ওমর গভীর রাতে ছদ্মবেশে মদিনার পথ ধরে হেটে বেড়াচ্ছিলেন এবং প্রজাদের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। এই সময়ে দেখতে পেলেন এক রাখাল এক পাল ছাগল নিয়ে তার সামনে দিয়ে যাচ্ছে। তিনি রাখালকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে বললেন, এই ছাগল গুলির মধ্যে যেকোনো একটি ছাগল আমার কাছে বিক্রি করে দাও। রাখাল বলল, এই ছাগলগুলো আমার নয়, আমার মনিবের। আমি তার ক্রীতদাস হযরত ওমর বললেনঃ আমরা যে জায়গায় আছি এখানে তোমার মনিব আমাদেরকে দেখতে পাবে না। একটা ছাগল বেঁচে দাও। আর মনিব কে বলে দিও যে, একটি ছাগল বাঘে খেয়ে ফেলেছে। রাখাল রাগান্বিত হয়ে চিৎকার করে বলে উঠলো: আল্লাহ কি দেখতে পাচ্ছেন না? হযরত ওমর চুপ করে রইলেন। রাখাল তার দিকে রাগত চোখে তাকিয়ে গড়-গড় করতে করতে ছাগল তাড়িয়ে নিয়ে চলে গেল। পরদিন সকালে ওমর ওই রাখালের মনিবের কাছে গেলেন এবং তাকে মনিবের কাছ থেকে কিনে নিয়ে স্বাধীন করে দিলেন। অতঃপর বললেন, হে যুবক কালকে তুমি আল্লাহর সম্পর্কে যে কথাটি বলেছিলে তা আজ তোমার দুনিয়ার গোলামী চুকিয়ে দিল। আমি আশা করি তোমার এই খোদাভীতি তোমাকে কিয়ামতের দিন দোজখের আজাব থেকেও মুক্তি দিবে। 

হযরত ওমর ও কাযী শুরাইহের ন্যায় বিচার

একবার হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম জৈনক বেদুইন এর কাছ থেকে একটি ঘোড়া কিনলেন। ঘোড়ার দাম পরিশোধ করেই তিনি ঘোড়ায় চড়লে এবং তাকে হাঁকিয়ে নিয়ে গেলেন। কিছুদূর যেতেই ঘোড়াটি হোঁচট খেয়ে খোঁড়া হয়ে গেল। তিনি তৎক্ষণাৎ ঘোড়াকে পিছনের দিকে ফিরিয়ে ওই বেদুইনের কাছে নিয়ে গেলেন। হযরত ওমর ভেবেছিলেন ঘোড়াটির আগে থেকেই পায়ে কোন খুঁত ছিল যা সামান্য ধাক্কা খেয়ে ভেংগে গেছে। তিনি ঘোড়ার মালিক কে বললেন, তোমার ঘোড়া ফেরত নাও। এর পা ভাঙ্গা। ঘোড়া বিক্রেতা বলল, আমিরুল মুমিনিন আমি ফেরত নিতে পারবো না। কারণ আমি যখন বিক্রি করেছি তখন ঘোড়াটি ভালো ছিল। হযরত ওমর বললেনঃ ঠিক আছে। একজন সালিশ ডাকা হোক। সে আমাদের বিরোধ মিটিয়ে দিবে। লোকটি বলল, শুরাইহ বিন হারিস কান্দি নামে একজন ভালো জ্ঞানী লোক কে আমি চিনি। তাকেই সালিশ মানা হোক। হযরত ওমর রাজি হলেন। 

শুরাইহ বিন হারিস খলিফা কে জিজ্ঞেস করলেন, আমিরুল মুমিনিন আপনি কি ঘোড়াটি সুস্থ অবস্থায় কিনেছিলেন? হযরত ওমর বললেনঃ হ্যাঁ। শুরাইহ বিন হারিস বললেন, তাহলে হয় আপনি ঘোড়াটির মূল্য দিয়ে কিনে নিন। নচেৎ যে অবস্থায় কিনেছিলেন সে অবস্থায় ফেরত দিন। একথা শুনে খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু চমৎকৃত হয়ে বললেন, এটিই সঠিক বিচার। তুমি সম্পূর্ণ নির্ভুল মত ও ন্যায্য রায় দিয়েছ। তুমি কুফা চলে যাও। আজ থেকে তুমি কুফার বিচারপতি। সেই থেকে দীর্ঘ ৬০ বছর পর্যন্ত তিনি মুসলিম জাহানের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। যতদূর জানা যায়, হযরত আলীর সময়ে তিনি খলিফার বিরুদ্ধে অনুরূপ আরেকটি রায় দিয়ে প্রধান বিচারপতির পদে উন্নীত হন। তারপর উমাইয়া শাসনকালে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের অবর্ণনীয় অত্যাচারে বিরক্ত হয়ে তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কোনো শাসকই তাকে পদচ্যুত করার সাহস পাননি। 

জাবালার ঔদ্ধত্য ও হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু

একবার হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হজ্জ করতে মক্কায় এলেন। তিনি কা'বার চারপাশে তাওয়াফ করছিলেন। তার সাথে সাথে একই কাতারে তাওয়াফ করছিলেন সদ্য ইসলাম গ্রহণকারী প্রতিবেশী এক রাজা জাবালা ইবনে আইহাম। জাবালা কা'বার চারপাশে প্রদক্ষিণ করার সময় হঠাৎ আরেক তাওয়াফকারী দরিদ্র আরব বেদুইন এর পায়ের তলায় চাপা পড়ে জাবালার বহুমূল্যবান ইহরামের চাদরের এক কোনা। চাদরটি রাজার কাঁধের ওপর থেকে টান লেগে নিচে পড়ে যায়। ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠেন জাবালা। লোকটির কোন ওজর আপত্তি না শুনে জাবালা তার গালে প্রবল জোরে একটি চড় বসিয়ে দেয়। লোকটি তৎক্ষণাৎ খলীফার নিকট গিয়ে নালিশ করে এবং এই অন্যায়ের বিচার চায়। 

খলিফা জাবালাকে তৎক্ষণাৎ ডেকে পাঠান এবং জিজ্ঞাসা করেন যে অভিযোগ সত্যি কিনা। জাবালা উদ্ধত স্বরে জবাব দেন সম্পূর্ণ সত্য। এই পাজিটা আমার চাদর পদদলিত করে আল্লাহর ঘরের সামনে আমাকে প্রায় উলঙ্গ করে দিয়েছে। খলিফা দৃঢ়তার সাথে জবাব দেন কিন্তু এটা ছিল একটি দুর্ঘটনা। জাবালা স্পর্ধিত কণ্ঠে বললেন, আমি তার পরোয়া করিনা। কা'বার সম্মান এর খাতিরে ও কা'বার চত্বরে রক্তপান নিষিদ্ধ থাকার কারণে আমি যথেষ্ট ক্রোধ সংবরণ করেছি। না হলে ওকে আমি চপেটাঘাত নয়, হত্যাই করতাম। 

জাবালা হযরত ওমরের একজন শক্তিশালী মিত্র ও ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। খলিফা তাই একটু থামলেন এবং কিছু চিন্তা-ভাবনা করলেন। অতঃপর শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, জাবালা তুমি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছ। এখন বাদী ক্ষমা না করলে তোমাকে ইসলামী আইনে শাস্তি মাথা পেতে নিতে হবে এবং বাদীর হাতে পাল্টা একটি চপেটাঘাত খেতে হবে। স্তম্ভিত হয়ে জাবালা বললেন, আমি একজন যোদ্ধা। আর ও হচ্ছে একজন সাধারণ কৃষক। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তোমরা উভয়েই মুসলমান এবং আইনের চোখে সবাই সমান। জাবালা বলল, যে ধর্মে রাজা ও একজন সাধারন প্রজাকে সমান চোখে দেখা হয় আমি তার আনুগত্য করতে পারিনা। ওই চাষা যদি আমাকে চপেটাঘাত করে তবে আমি ইসলাম ত্যাগ করব। 

হযরত ওমর ততোধিক কঠোর স্বরে জবাব দিলেন, তোমার মত হাজার জাবালাও যদি ইসলাম ত্যাগ করে চলে যায়, তবে সেই ভয়ে ইসলামের একটি ক্ষুদ্রতম বিধিও লঙ্ঘিত হতে পারে না। তোমাকে এই শাস্তি পেতেই হবে। আরে কোথাও জেনে রাখ ইসলাম কাউকে জোর পূর্বক মুসলমান বানায় না। তোমাকেও বানায় নি। কিন্তু ইসলাম ত্যাগ করা সহজ নয়। মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। হযরত ওমরের শেষোক্ত কথাটা শুনে জাবালা রাগে ও ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলো। হযরত ওমরের নির্দেশে বাদী তৎক্ষণাৎ সজোরে জাবালার মুখে ঠাস করে একটি চড় বসিয়ে দিয়ে প্রতিশোধ নিয়ে নিল। জাবালা ক্রোধে চোখ লাল করে বাদীর দিকে একবার তাকালো। অতঃপর রাগে গরগর করতে করতে কা'বার চত্বর ত্যাগ করে নীরবে চলে গেল।

চূড়ান্ত কথা 

এই ছিল অর্ধ পৃথিবীর শাসক হযরত উমর (রাঃ) এর ন্যায় বিচার এর কয়েকটি নমুনা। পোস্টটি যেকোনো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে শেয়ার করতে পারেন। মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url