ইসলামের প্রথম নারী শহীদ । হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এর শাহাদাত

ইসলামের প্রথম নারী শহীদ হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এর শাহাদাত সম্পর্কে আমি "Islamic Solution - ইসলামিক কথা" এই ওয়েবসাইটে সুন্দর করে সাজিয়ে একটি পোষ্ট করছি। ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম মুসলিম এবং সর্বপ্রথম শহীদ হলেন দুজন নারী। সর্বপ্রথম মুসলিম ছিলেন উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রাঃ) এবং সর্বপ্রথম শহীদ ছিলেন হযরত সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত (রাঃ)। আমরা আজকে হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এর শাহাদাত সম্পর্কে জানব।

সুমাইয়া (রাঃ),ইসলামের প্রথম শহীদ সুমাইয়া রা: এর জীবনী,ইসলামের প্রথম শহীদ সুমাইয়া রা,ইসলামের প্রথম শহীদ নারী,ইসলামের প্রথম শহীদ সুমাইয়া,হযরত সুমাইয়া,মা সুমাইয়া (রাঃ) এর,হযরত সুমাইয়া রা. এর কাহিনী,মা সুমাইয়া (রাঃ) এর নির্যাতনের কথা শুনে কান্নার,হযরত সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু। ইসলামে প্রথম শাহাদাত বরণ করেছিলেন যে নারী,সুমাইয়া (রাঃ) এর জীবনী,হযরত ওমর রাঃ এর ইসলাম গ্রহণ,হযরত সুমাইয়া রা: এর কষ্টের জীবনী,হযরত সুমাইয়া রাঃ,প্রথম শহীদ হয়েছিলেন যে নারী।
ইসলামের প্রথম নারী শহীদ

সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত (রাঃ) এর বংশ পরিচয়

তিনি ছিলেন প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসীরের মা। আম্মার ইবনে ইয়াসীর (রাঃ) ছিলেন আজীবন মুজাহিদ। ৯০ বছর বয়সে তিনি সিফফিনের যুদ্ধে শহীদ হন। হযরত সুমাইয়া (রাঃ) ছিলেন হযরত আবু হুজাইফা ইবনে মুগীরা মাখযুমির দাসী।

হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহণ

হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এবং তার স্বামী ইয়াসীর (রাঃ) একেবারে প্রথম দিকেই ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে হযরত সুমাইয়া (রাঃ) ছিলেন সপ্তম। দাসি হওয়ার কারণে তাকে ইসলাম গ্রহণ করার জন্য চরম নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়।

তৎকালীন সমাজে দাস-দাসীরা ছিল সমাজে অবহেলিত এবং উপেক্ষিত। তাদের স্বাধীন নাগরিক অধিকার এবং নিরাপত্তা ছিলনা। হযরত খাদিজা, আলী এবং আবু বকর (রাঃ) এর মত ব্যক্তিদের উপর নির্যাতনের মাত্রা তীব্র এবং অসহনীয় হলে তাদের বংশের লোকদের উপর এর প্রতিক্রিয়া হত এবং যারা সীমাহীন অত্যাচার করত তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতিত ব্যক্তির গোত্র এবং বংশের মধ্যে রুখে দাঁড়াবার ভয় ছিল। কিন্তু দাস-দাসী বিলাল, খাব্বাব, সুহাইব, ইয়াসির এবং সুমাইয়া (রাঃ) দের জন্য অভিজাত গোত্রগুলোর মত রুদ্ররোষের ভয় ছিল না।

হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এর পরিবারের তিনজনই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বাকি দুইজন ছিলেন তার স্বামী ইয়াসির এবং পুত্র আম্মার (রাঃ)। হযরত সুমাইয়া (রাঃ) যখন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তখন তিনি প্রকৃত দাসীও ছিলেন না। তার মালিক আবু হুজায়ফা ছেলে আম্মারের জন্মের পরই তাকে মুক্ত করে দেন।

হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এর স্বামী ইয়াসির এবং তার মালিক আবু হুজায়ফা ছিলেন পরস্পরের বন্ধু। বন্ধু আবু হুজায়ফার দাসি সুমাইয়াকে ইয়াসিরের পছন্দ হয়ে যাওয়ায় ইয়াসির বন্ধুর দাসি কেই বিয়ে করেন।

হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এর অত্যাচারের স্বীকার

নওমুসলিম হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এর উপর অত্যাচার তার মালিকের পক্ষ থেকে ছিল না, তার উপর দৈহিক নির্যাতন আসতো সমাজের ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের থেকে। ইসলাম গ্রহণ করার কারণে মুশরিকগণ হযরত সুমাইয়া (রাঃ) কে তার মালিকের ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যেত। উত্তপ্ত বালির উপর দাঁড় করিয়ে রাখত। লোহার বর্ম এবং পোশাক পরিয়ে প্রখর সূর্যতাপে দগ্ধ করত। বেত্রাঘাত, চাবুকের আঘাত ছিল অতি সাধারন শাস্তি।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সুমাইয়া, তারপুত্র আম্মার, এবং স্বামী ইয়াসির (রাঃ) এর উপর মক্কার ইসলামবিরোধীদের নির্যাতনের বিষয়ে অবহিত ছিলেন। তাদেরকে নির্যাতিত হতে দেখে তিনি উপদেশ দিয়ে বলতেন, "হে ইয়াসির পরিবার! ধৈর্য ধারণ করো। জান্নাতে তোমাদের জন্য স্থান নির্ধারিত আছে"। চরম ধৈর্য ধারণ করেও তারা নিস্তার পাননি। তাদের দিবা রজনী অতিবাহিত হত নির্যাতনের কবলে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ

হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এর শাহাদাত

হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এর উপর নির্যাতনকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন- ইসলামের সবচেয়ে বড় দুশমন আবু জাহেল। একরাতে হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এর কক্ষে প্রবেশ করে আবু জাহেল প্রচন্ড আক্রোশে তার নারী অঙ্গে বর্ষার আঘাত করে। এই আঘাতেই হযরত সুমাইয়া (রাঃ) শাহাদাত বরণ করেন।

মায়ের মৃত্যুতে ব্যথা বিদুর আম্মার (রাঃ) ছুটে যান রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে, কিন্তু মুসলিমদের অবস্থা তখন এমন নাজুক ছিল যে ধৈর্য ধারণ করা ছাড়া প্রতিবাদেরও কোন উপায় ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ রব্বুল আলামীনের নিকট মোনাজাতে বললেন,

"আল্লাহুম্মা লা তুয়াজ্জিব আহাদান মীন আলে ইয়াসিরা মীন নার"

অর্থাৎ "হে আল্লাহ! ইয়াসির পরিবারের কাউকে তুমি জাহান্নামের শাস্তি দিও না"।

আবু জাহেলকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিহিত করেছেন এই উম্মতের ফেরাউন হিসেবে। আবু জাহেল আর হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এর ঘটনা গুলো পড়লে আমাদের কাছে ফেরাউন এবং আসিয়া (আলাইহাস সালাম) এর ঘটনার মতোই মনে হয়।

হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এবং আসিয়া (আঃ) দুজনেই নিজেদের বিশ্বাসের উপর অটল থেকে শহীদ হন।

বদর যুদ্ধে আবু জাহেল কে হত্যা করা হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ) কে ডেকে বলেন,

"আল্লাহ তাআলা তোমার মায়ের হত্যাকারী কে হত্যা করেছেন"

উল্লেখ্য, হযরত সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত (রাঃ) ইসলামের ইতিহাসের প্রথম শহীদের মর্যাদা লাভ করেছেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url