দাজ্জালের আগমন, দাজ্জালের ফিতনাসমূহ এবং এর থেকে বাঁচার উপায়

দাজ্জালের আগমন, দাজ্জাল কোথায় আছে, দাজ্জালের ফিতনাসমূহ এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায় এই সম্পর্কে আমি "Islamic Solution - ইসলামিক কথা" এই ওয়েবসাইটে কিয়ামত সিরিজ পেইজে সুন্দর করে সাজিয়ে পোষ্ট করছি। কিয়ামতের ছোট আলামত ও কিয়ামতের বড় আলামত ইমাম মাহদীর আগমণ সম্পর্কে আমরা কিয়ামত সিরিজের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করেছি। আমরা আজকে কিয়ামতের আরেকটি বড় আলামত তথা দাজ্জালের আগমন, দাজ্জালের ফিতনাসমূহ এবং দাজ্জাল থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে জানব।

দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দোয়া,দাজ্জাল কোথায় আছে,দাজ্জালের ফিতনা,দাজ্জাল,দাজ্জালের আগমন,দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়,দাজ্জালের কাহিনী,দাজ্জাল কখন আসবে,দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার আমল,দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়,দাজ্জাল কে,দাজ্জাল এখন কোথায় আছে,দাজ্জালের ঘটনা,দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায় কি,দাজ্জাল কবে আসবে,দাজ্জালের ফিতনা কি কি,দাজ্জাল বর্তমানে কোথায় আছে,দাজ্জাল কোথায় বন্দী আছে,দাজ্জাল ওয়াজ

নিশ্চয়ই কেয়ামতের পূর্বে অন্ধকার রাত্রির মতো ঘন কালো অনেক ফিতনার আবির্ভাব হবে। সকালে একজন লোক মুমিন অবস্থায় জাগ্রত হবে, বিকালে সে কাফিরে পরিণত হবে। বহু সংখ্যক লোক ফিতনায় পড়ে দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে তাদের চরিত্র ও আদর্শ বিক্রি করে দিবে। অপর বর্ণনায় এসেছে, তোমাদের একজন দুনিয়ার সামান্য সম্পদের বিনিময়ে তার দ্বীন বিক্রি করে দিবে।

দাজ্জালের পরিচয়

কিয়ামতের সবচেয়ে বড় আলামত হল দাজ্জালের আগমন। দাজ্জাল মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপদ, সবচেয়ে বড় পরীক্ষা, সবচেয়ে বড় ফিতনাহর নাম। দাজ্জাল কোনো সভ্যতা নয়, বরং দাজ্জাল হবে একজন ব্যক্তি।

মানব জাতির উপর দাজ্জালের চেয়ে বড় কোন বিপদ না পূর্বে কখনো এসেছে, আর না পরবর্তীতে কখনো আসবে। প্রতিটি নবী-রাসূলগণ নিজ নিজ উম্মতকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য সতর্ক করে গিয়েছেন। কিন্তু কোনো উম্মতের সময়েই দাজ্জালের আগমন হয়নি। সুতরাং, নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এই উম্মতের সময়ে দাজ্জালের আগমন ঘটবে এবং দাজ্জালের ধোকায় পড়ে অনেক মুমিন ব্যক্তিও নিজের ঈমান হারিয়ে ফেলবে।

আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য আমাদেরকে সতর্ক করে গিয়েছেন এবং তার অনিষ্ট থেকে বাঁচার উপায়ও জানিয়েছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনসমাবেশে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে প্রথমে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন। অতঃপর দাজ্জালের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বললেন, আমি তোমাদেরকে তার ফিতনা থেকে সাবধান করছি। সকল নবীই নিজ নিজ উম্মতকে দাজ্জালের ভয় দেখিয়েছেন। নূহ (আঃ)ও তার উম্মতকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। কিন্তু আমি তোমাদের কাছে দাজ্জালের এমন একটি পরিচয়ের কথা বলব, যা কোন নবীই তার উম্মতকে বলেননি। জেনে রেখো, দাজ্জাল হবে অন্ধ। আর আমাদের মহান আল্লাহ অন্ধ নন।

নাওয়াস বিন সাম‍আন (রঃ) বলেন, একদিন ভোরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে দাজ্জালের কথা বললেন। তিনি তার ফিতনাকে এতো বড় করে তুলে ধরলেন যে, তার বর্ণনা শুনে আমরা মনে করলাম, নিকটস্থ খেজুরের বাগানের পাশেই হয়তো সে অবস্থান করছে। এক সময় আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে চলে এলাম। কিছুক্ষণ পর আমরা আবার তার কাছে গেলাম।

এবার তিনি আমাদের অবস্থা বুঝে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কি হলো? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যেভাবে দাজ্জালের আলোচনা করেছেন, তা শুনে আমরা ভাবলাম, হতে পারে এসে খেজুরের বাগান এর ভেতরেই রয়েছে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দাজ্জাল ছাড়াও তোমাদের উপর আমার আরো ভয় রয়েছে। আমি তোমাদের মাঝে জীবিত থাকতেই যদি দাজ্জালের আগমন হয়, তাহলে তোমাদেরকে ছাড়া আমি একাই তার বিরুদ্ধে লড়াই করব। আর আমি চলে যাওয়ার পর যদি সে আগমন করে, তাহলে প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজেকে হেফাজত করবে। আর আল্লাহই প্রতিটি মুসলিমকে হেফাজতকারী হিসাবে যথেষ্ট।

দাজ্জালের আগমন এর আলামত

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দাজ্জালের আগমন এর তিন বছর পূর্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে, তখন মানুষ চরমভাবে অন্নকষ্ট ভোগ করবে। প্রথম বছর আল্লাহ তাআলা আসমানকে তিন ভাগের এক ভাগ বৃষ্টি আটকে রাখার নির্দেশ দিবেন এবং জমিনকে নির্দেশ দিলে তা এক-তৃতীয়াংশ ফসল কম উৎপাদন করবে। এরপর তিনি আসমানকে দ্বিতীয় বছর একই নির্দেশ দিলে তা দুই-তৃতীয়াংশ কম বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং জমিনকে হুকুম দিলে তাও দুই-তৃতীয়াংশ কম ফসল উৎপন্ন করবে। এরপর আল্লাহ তাআলা আকাশকে তৃতীয় বছরে একই নির্দেশ দিলে তা সম্পূর্ণভাবে বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দিবে। ফলে এক ফোঁটা বৃষ্টিও বর্ষিত হবে না। আর তিনি জমিনকে নির্দেশ দিলে তা শস্য উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখবে। ফলে জমিনে কোন ঘাস জন্মাবে না, কোন সবজি অবশিষ্ট থাকবে না, বরং তা ধ্বংস হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যা চাইবেন।

জিজ্ঞেস করা হলো, এ সময় লোকেরা কিরূপে বেঁচে থাকবে? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যারা তাহলীল, তাকবীর, তাসবিহ ও তাহমিদ বলতে থাকবে এগুলো তাদের খাদ্যনালীতে প্রবাহিত করা হবে।

দাজ্জালের আগমনের সময় মুসলমানদের অবস্থা

দাজ্জালের আগমনের পূর্ব মুহূর্তে মুসলমানদের অবস্থা খুব ভাল থাকবে। তারা পৃথিবীতে শক্তিশালী ও বিজয় থাকবে; এবং সম্ভবত এই শক্তির পতন ঘটানোর জন্যই দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে।

অনেক আলেমের মতে, দাজ্জাল হবে মানব জাতিরই একজন। কিন্তু সাধারণ মানুষের তুলনায় দাজ্জাল কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের অধিকারী হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিস্তারিতভাবে দাজ্জালের পরিচয় বর্ণনা করেছেন, যেন মুমিন বান্দারা এ সম্পর্কে অবগত থেকে তাকে দেখে সহজেই চিনতে পারেন এবং তার ফিতনা থেকে নিজেদেরকে ও নিজেদের ঈমানকে বাঁচাতে পারেন। ফলে একমাত্র জাহেল, মূর্খ ও হতভাগ্য ব্যতীত কেউ দাজ্জালের ধোকায় পড়বে না।

দাজ্জালের চেহারা কেমন হবে

মহান আল্লাহতালার ইচ্ছায় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল কে স্বপ্নে দেখেছেন এবং সাহাবীদের নিকট তার শারীরিক গঠন এর বর্ণনাও প্রদান করেছেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দাজ্জাল হবে বৃহদাকার একজন যুবক পুরুষ। তার শরীরের রং হবে লাল এবং সে হবে বেটে। তার মাথার চুল হবে কোঁকড়া, কপাল হবে উঁচু, বক্ষ হবে প্রশস্ত এবং চক্ষু হবে টেরা ও আঙ্গুর ফলের মতো উঁচু। দাজ্জাল হবে নির্বংশ। তাঁর কোন সন্তান থাকবে না।

দাজ্জাল সম্পর্কিত অন্যান্য হাদীস

বিভিন্ন হাদিসে দাজ্জালের চোখ অন্ধ হওয়ার কথাও বর্ণিত হয়েছে। কোন কোন হাদিসে বলা হয়েছে, দাজ্জাল হবে অন্ধ। সহি বুখারী ও সহীহ মুসলিমের হাদিসে বলা হয়েছে, দাজ্জালের ডান চোখ হবে অন্ধ। আবার কোন হাদিসে বলা হয়েছে, তার বাম চোখ হবে অন্ধ। মোটকথা তার একটি চোখ হবে অন্ধ। এবং দাজ্জালের অন্যান্য লক্ষণগুলো কারো কাছে অস্পষ্ট থেকে গেলেও অন্ধ হওয়ার বিষয়টি কারো কাছেই অস্পষ্ট হবে না। তার দুই চোখের মাঝখানে কাফির শব্দটি লেখা থাকবে।

সহি বুখারী হাদিসে বলা হয়েছে, দাজ্জাল কে চেনার সবচেয়ে বড় আলামত হল, তার কপালে কাফির শব্দটি লেখা থাকবে। সহি মুসলিম এর একটি বর্ণনায় আছে, তার কপালে 'কাফ', 'ফা' এবং 'র' এই তিনটি বর্ণ লেখা থাকবে এবং প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তি তা পড়তে পারবেন। সহিঃ মুসলিম এর অপর বর্ণনায় এসেছে, শিক্ষিত অশিক্ষিত সকল মুসলিম ব্যক্তি তা পড়তে পারবেন।

আসল কথা হলো, আল্লাহ মুমিনের জন্য তার অন্তর্দৃষ্টি খুলে দিবেন। ফলে মুমিন ব্যক্তি যদি পড়াশোনা নাও জানেন, তবুও তিনি দাজ্জালকে দেখে সহজেই চিনতে পারবেন। পক্ষান্তরে, পড়াশোনা জানা ও শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও কাফের ও মুনাফিক ব্যক্তিরা তা দেখেও পড়তে পারবেনা। কেননা আল্লাহ তাআলার অসংখ্য সুস্পষ্ট দলিল ও প্রমাণ দেখেও তারা ঈমান আনেনি।

দাজ্জাল কেন মক্কা-মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না?

ফাতেমা বিনতে কায়িস (রঃ) বলেন, একদিন আমি মসজিদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সাথে নামাজ আদায় করলাম। আমি ছিলাম মহিলাদের কাতারে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ শেষে হাসতে হাসতে মিম্বরে উঠে বসলেন। প্রথমেই তিনি বললেন, প্রত্যেকেই যেন আপন আপন জায়গায় বসে থাকে। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি জানো, আমি কেন তোমাদেরকে একত্রিত করেছি? উপস্থিত মানুষেরা বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। অতঃপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদেরকে কোন বিষয়ে উৎসাহিত করার জন্য কিংবা কোনো বিষয়ে ভয় ভীতি প্রদর্শনের জন্য একত্রিত করিনি। বরং আমি তোমাদেরকে এ সংবাদ দেয়ার জন্য একত্রিত করেছি যে, তামীম আদ-দারী নামের একজন খ্রিস্টান লোক ছিল। সে আমার কাছে আগমন করে ইসলাম গ্রহণ করেছে। অতঃপর সে মিথ্যুক দাজ্জাল সম্পর্কে এমন ঘটনা বলেছে, যা আমি তোমাদের কাছে দাজ্জাল সম্পর্কে বর্ণনা করতাম, তার অনুরূপ।

লাখম ও জুযাম গোত্রের ত্রিশ জন লোকের সাথে সে সাগরপথে ভ্রমণে গিয়েছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার শিকার হয়ে এক মাস পর্যন্ত তারা সাগরেই ছিল। অবশেষে তারা সাগরের মাঝখানে একটি দ্বীপে অবতরণ করল। দ্বীপের ভিতর প্রবেশ করে তারা মোটা মোটা ও প্রচুর চুল বিশিষ্ট একটি অদ্ভুত প্রাণীর সন্ধান পেল। চুল দ্বারা সমস্ত শরীর আবৃত থাকার কারণে প্রাণীটির অগ্র-পশ্চাৎ নির্ধারণ করতে তারা সক্ষম হল না। তারা বলল, অকল্যাণ হোক তোমার! কে তুমি? প্রাণীটি বলল, আমি সংবাদ সংগ্রহকারী গোয়েন্দা। তারা বলল, কিসের সংবাদ সংগ্রহকারী? অতঃপর প্রাণীটি একটি ঘরের দিকে ইঙ্গিত করে বলল, তোমরা এই ঘরের ভিতরে অবস্থানরত লোকটির কাছে যাও। সে তোমাদের কাছ থেকে সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য অপেক্ষা করছে।

তামীম আদ-দারী বলেন, প্রাণীটি যখন একজন লোকের কথা বলল, তখন আমাদের ভয় হলো যে হতে পারে সে একটি শয়তান। তবুও আমরা ভয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়ে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করলাম। সেখানে প্রবেশ করে আমরা বৃহদাকার একটি মানুষ দেখতে পেলাম। এত বড় আকৃতির মানুষ আমরা ইতোপূর্বে কখনো দেখিনি। তার হাত দুটিকে ঘাড়ের সাথে একত্রিত করে হাঁটু এবং গোড়ালির মধ্যবর্তী স্থানে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। আমরা বললাম, মৃত্যু হোক তোমার! কে তুমি? সে বলল তোমরা আমার কাছে আসতে সক্ষম হয়েছো। তাই আগে তোমাদের পরিচয় দাও। আমরা বললাম, আমরা একদল আরব মানুষ নৌকায় আরোহণ করলাম। সাগরের প্রচন্ড ঢেউ আমাদেরকে নিয়ে এক মাস পর্যন্ত খেলা করলো। অবশেষে তোমার দ্বীপে উঠতে বাধ্য হলাম। দ্বীপে প্রবেশ করেই অনেক পশম বিশিষ্ট এমন একটি জন্তুর সাক্ষাৎ পেলাম, প্রচুর পশমের কারণে যার অগ্রপশ্চাৎ চেনা যাচ্ছিল না। তার কথার সূত্র ধরেই তোমার এখানে এসেছি।

বৃহদাকার মানুষটি বলল, তোমরা আমাকে বাইসান সম্পর্কে সংবাদ দাও। আমরা বললাম, বাইসানের সম্পর্কে কি জানতে চাচ্ছো? সে বলল, আমি সেখানকার খেজুরের বাগান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি। সেখানের গাছগুলি কি এখনো ফল দেয়? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। সে বলল, সেইদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন গাছগুলোতে কোন ফল ধরবে না। অতঃপর বৃহদাকার মানুষটি বলল, আমাকে বুহাইরাতুত্ তাবারীয়া সম্পর্কে সংবাদ দাও। আমরা তাকে বললাম, বুহাইরাতুত্ তাবারীয়ার কী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছো? সে বলল, আমি জানতে চাই সেখানে কি এখনও পানি রয়েছে? আমরা বললামঃ সেখানে প্রচুর পানি আছে। সে বলল, অচিরেই সেখানকার পানি শেষ হয়ে যাবে। বৃহদাকার মানুষটি পুনরায় বলল, আমাকে 'যুগার' নামক ঝর্না সম্পর্কে সংবাদ দাও। আমরা তাকে বললাম, সেখানকার কি সম্পর্কে তুমি জানতে চাও? সে বলল, আমি জানতে চাই সেখানেও কি এখনও পানি রয়েছে? লোকেরা কি এখনও সেই পানি দিয়ে চাষাবাদ করছে? আমরা বললাম, সেখানেও প্রচুর পানি রয়েছে। লোকেরা সে পানি দিয়ে চাষাবাদ করছে। বৃহদাকার মানুষটি আবার বলল, আমাকে উম্মীদের নবী সম্পর্কে জানাও। আমরা বললাম, তিনি মক্কায় আগমন করে বর্তমানে মদিনায় হিজরত করেছেন। সে বলল, আরবেরা কি তার সাথে যুদ্ধ করেছে? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। সে বলল, ফলাফল কি হয়েছে? আমরা তাকে সংবাদ দিলাম, পার্শ্ববর্তী আরবদের উপর তিনি জয়লাভ করেছেন। ফলে তারা তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে নিয়েছে। সে বলল, তাই নাকি? আমরা বললামঃ হ্যাঁ, তাই। বৃহদাকার মানুষটি বলল, তার আনুগত্য করাই তাদের জন্য ভালো। এখন আমার কথা শোনো। আমি হলাম দাজ্জাল। অচিরেই আমাকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। আমি বের হয়ে চল্লিশ দিনের ভিতরে পৃথিবীর সমস্ত দেশ ভ্রমণ করব। তবে মক্কা-মদীনায় প্রবেশ করা আমার জন্য নিষিদ্ধ থাকবে। যখনই আমি মক্কা বা মদীনায় প্রবেশ করতে চাইবো, তখনই ফেরেশতাগণ কোষমুক্ত তলোয়ার হাতে নিয়ে আমাকে তাড়া করবে। মক্কা-মদিনার প্রতিটি প্রবেশ পথে ফেরেশতাগণ পাহারা দিবেন।

হাদীসের বর্ণনাকারী ফাতিমা বিনতে কায়িস (রঃ) বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতের লাঠি দিয়ে মিম্বারে আঘাত করতে করতে বললেন, এটাই মদিনা! এটাই মদিনা! এটাই মদিনা! অর্থাৎ, এই সেই জায়গা, যেখানে দাজ্জাল আসতে পারবে না।

দাজ্জাল কোথায় আছে

অতঃপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম মানুষদের লক্ষ্য করে বললেন, তামীম আদ-দারীর বর্ণনাটি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। তার বর্ণনা আমার বর্ণনার সাথে মিলে গিয়েছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনা সম্পর্কে। শুনে রাখো! দাজ্জাল আছে শাম দেশের সাগরে অর্থাৎ ভূমধ্যসাগরে। অথবা আরব সাগরে। আর নয়তো, সে আছে পূর্বদিকে। সে আছে পূর্বদিকে। সে আছে পূর্বদিকে। এই বলে তিনি পূর্ব দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন। ফাতিমা বিনতে কায়িস (রঃ) বলেন, আমি এই হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে মুখস্ত করে রেখেছি।

বাইসানের খেজুর বাগানের বর্তমান অবস্থা

তামীম আদ-দারী ও তার সঙ্গীদের নিকট দাজ্জাল যে 'বাইসান' সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল, তা বর্তমান ইসরাইলের উত্তর জেলার একটি শহর এবং বর্তমানে সত্যিই এ শহরের খেজুর গাছ গুলোতে কোন ফল ধরছেনা। দাজ্জাল যে 'বুহাইরাতুত্ তাবারীয়া' বা 'তাবারীয়া উপসাগর' সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল, তা বর্তমানে সিরিয়া, জর্ডান ও ইসরাইল সীমান্তের কাছে অবস্থিত 'Sea of Galilee' বা 'গ্যালিলি সাগর' নামে পরিচিত, এবং সত্যিই বর্তমানে এ সাগরের পানি কমতে কমতে ব্ল্যাকলাইনের একদম চূড়ান্তে পৌঁছে গিয়েছে।

দাজ্জাল কোথা থেকে বের হবে?

দাজ্জালের বের হওয়ার স্থান সম্পর্কেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আমাদেরকে জানিয়ে গিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পূর্বের কোন একটি দেশ থেকে দাজ্জালের আগমন ঘটবে, যার বর্তমান নাম 'খোরাসান'। অর্থাৎ দাজ্জাল পূর্ব দিকের পারস্য দেশের 'খোরাসান' নামক স্থান থেকে বের হবে। সেখান থেকে বের হয়ে সে সমগ্র দুনিয়া ভ্রমণ করবে। তবে মক্কা এবং মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না। ফেরেশতাগণ সেদিন মক্কা-মদিনার প্রবেশপথ সমূহ উন্মুক্ত তরবারী হাতে নিয়ে পাহারা দিবেন। সে সময় মদিনা শহর তিনবার কেঁপে উঠবে এবং প্রত্যেক মুনাফিক ও কাফিরদেরকে সেখান থেকে বের করে দিবে।

দাজ্জাল পৃথিবীতে কত দিন থাকবে?

একদিন সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, দাজ্জাল পৃথিবীতে কতদিন অবস্থান করবে? উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে চল্লিশ দিন অবস্থান করবে। প্রথম দিনটি হবে এক বছরের সমান দীর্ঘ। দ্বিতীয় দিনটি হবে এক মাসের সমান। তৃতীয় দিনটি হবে এক সপ্তাহের সমান। আর বাকি দিনগুলো দুনিয়ার স্বাভাবিক দিনের মতই হবে। সাহাবীগণ বললেন, যে দিনটি এক বছরের সমান দীর্ঘ হবে, সেদিন কি একদিনের নামাজই যথেষ্ট হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না। বরং তোমরা অনুমান করে সময় নির্ধারণ করে নামাজ পড়বে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাজ্জালের চলার গতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, দ্রুতগামী বাতাস বৃষ্টিকে যেভাবে চালিয়ে নেয় দাজ্জালের চলার গতিও ঠিক সেরকম হবে।

দাজ্জালের ফিতনাসমূহ

পিতা আদম (আঃ) এর সৃষ্টি থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের উপর আসা সমস্ত রকম ফিতনা-পরীক্ষার বিপরীতে দাজ্জালের ফিতনা তথা, দাজ্জালের পরীক্ষা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম। দাজ্জাল নিজেকে 'আল্লাহ' হিসেবে দাবী করবে। তার দাবির পক্ষে সে এমন কিছু প্রমাণও উপস্থাপন করবে যা দেখে দুর্বল ঈমানের লোকেরা বিভ্রান্তিতে পড়ে বাস্তবেই তাকে প্রভু মেনে বসবে। কিন্তু দৃঢ় ঈমানধারী ব্যক্তিগণের নিকট দাজ্জালের এ দাবিটি সুস্পষ্ট দিবালোকের ন্যায় মিথ্যা বলে প্রকাশিত হবে। কেননা, দাজ্জালের বিভিন্ন মিথ্যা অলৌকিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম স্পষ্টভাবেই বলে গিয়েছেন এবং একজন মুমিন ব্যক্তিই সেসকল বিষয়ে অবশ্যই অবগত থাকবেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দাজ্জালের সাথে যা থাকবে তা সম্পর্কে আমি অবগত আছি। তার সাথে দুটি নদী প্রবাহিত থাকবে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে একটি নদীতে সুন্দর পরিষ্কার পানি দেখা যাবে। অন্যটিতে দাও দাও করে আগুন জ্বলতে দেখা যাবে। যার সাথে দাজ্জালের সাক্ষাৎ হবে, সে যেন দাজ্জালের আগুনে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে এবং সেখান থেকে পান করে। কারণ সেটিই সুমিষ্ট পানি। তার চোখের উপর মোটা আবরন থাকবে। কপালে 'কাফির' লেখা থাকবে। মূর্খ ও শিক্ষিত সকল ঈমানদার ব্যক্তিই তা পড়তে সক্ষম হবে। অর্থাৎ দাজ্জালের সাথে জান্নাত এবং জাহান্নাম থাকবে। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা হবে সম্পূর্ণ বিপরীত। দাজ্জাল যেটিকে জাহান্নামের আগুন বলে পরিচয় করাবে, প্রকৃতপক্ষে সেটি হবে সুমিষ্ট পানি এবং যেটিকে জান্নাত বলে আখ্যায়িত করবে, সেটিই হবে জাহান্নামের আগুন।

দাজ্জাল তার কর্মকাণ্ডে জ্বীন শয়তানদের সহযোগিতা নিবে। এসব জ্বীন শয়তানেরা কেবল মিথ্যা, গোমরাহী এবং কুফরি কাজেই সাহায্য করে থাকে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দাজ্জাল মানুষের কাছে গিয়ে বলবে, আমি যদি তোমার মৃত পিতা-মাতাকে জীবিত করে দেখাই, তাহলে কি তুমি আমাকে রব হিসেবে মানবে? মানুষ বলবে, অবশ্যই মানবো। এ সুযোগে শয়তান তার পিতা-মাতার আকৃতি ধারণ করে বলবে, হে সন্তান! তুমি তার অনুসরণ করো। সে তোমার প্রতিপালক। মূলত দাজ্জালের ফিতনার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাকে পরীক্ষা করবেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দাজ্জালের আগমন এর পর দাজ্জাল এক জনসমাজে গিয়ে মানুষকে তার প্রতি ঈমান আনয়নের জন্য আহ্বান জানাবে। এতে তারা ঈমান আনবে। ফলে দাজ্জাল তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করার জন্য আকাশকে নির্দেশ দিবে। তার নির্দেশে আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে, জমিন ফসল উৎপন্ন করবে এবং তাদের পশুপাল ও চতুষ্পদ জন্তুগুলি অধিক মোটাতাজা হবে এবং পূর্বের তুলনায় বেশি দুধ প্রদান করবে। অতঃপর সে অন্য একটি জনসমাজে গিয়ে মানুষকে তার প্রতি ঈমান আনয়নের জন্য আহ্বান জানাবে। লোকেরা তার কথা প্রত্যাখ্যান করবে। ফলে দাজ্জাল তাদের নিকট থেকে ব্যর্থ হয়ে ফেরত আসবে। এতে তারা চরম অভাবে পড়বে। তাদের ক্ষেত-খামারের চরম ফসলহানি দেখা দিবে। দাজ্জাল পরিত্যক্ত ভূমিকে তার নিচে লুকায়িত গুপ্তধন বের করতে বলবে। গুপ্তধন গুলো বের হয়ে মৌমাছির দলের ন্যায় তার পিছে পিছে চলতে থাকবে।

বুখারির হাদিসে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন, দাজ্জাল বের হয়ে মদীনার দিকে অগ্রসর হবে। যেহেতু মদিনায় দাজ্জালের প্রবেশ নিষিদ্ধ, তাই সে মদিনার নিকটবর্তী একটি স্থানে অবস্থান করবে। তার কাছে একজন মুমিন যুবক গমন করবেন। তিনি হবেন ওই জামানার সর্বোত্তম মুমিন ব্যক্তি। দাজ্জালকে দেখে তিনি বলবেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি সেই দাজ্জাল যার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সাবধান করেছেন।

তখন দাজ্জাল উপস্থিত মানুষকে লক্ষ্য করে বলবে, আমি যদি একে হত্যা করে জীবিত করতে পারি তাহলে কি তোমরা আমার ব্যাপারে কোন সন্দেহ পোষণ করবে? লোকেরা বলবে, না। অতঃপর সে এই মুমিন যুবককে হত্যা করে পুনরায় জীবিত করবে। এ পর্যায়ে যুবকটি বলবে, আল্লাহর শপথ! তুমি যে মিথ্যুক দাজ্জাল- এ সম্পর্কে আমার বিশ্বাস আগের তুলনায় আরো মজবুত হলো। দাজ্জাল তাকে দ্বিতীয়বার হত্যা করার চেষ্টা করবে। কিন্তু তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না।

সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, এই যুবক দাজ্জালকে দেখে বলবেন, হে লোক সকল! এটি সেই দাজ্জাল, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সাবধান করেছেন। অতঃপর দাজ্জাল তার অনুসারীদেরকে বলবে, একে ধরো এবং প্রহার করো। তাকে মেরে-পিটিয়ে জখম করা হবে। অতঃপর দাজ্জাল তাকে জিজ্ঞেস করবে, এখনো কি আমার প্রতি ঈমান আনবে না? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যুবকটি বলবেন, তুমি মিথ্যাবাদী দাজ্জাল।

তারপর দাজ্জালের আদেশে তার মাথায় করাত লাগিয়ে দ্বিখন্ডিত করে ফেলা হবে। দাজ্জাল সেই দ্বিখণ্ডিত মাথার মাঝ দিয়ে হাটাহাটি করবে। অতঃপর বলবে, উঠে দাঁড়াও। যুবকটি পুনরায় জীবিত হয়ে উঠে দাঁড়াবেন। দাজ্জাল বলবে, এখনো ঈমান আনবে না? যুবকটি বলবে, তুমিই যে সেই মিথ্যাবাদী দাজ্জাল এ ব্যাপারে আমার বিশ্বাস আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। অতঃপর তিনি বলবেন, হে লোক সকল! আমার পরে আর কারো সাথে দাজ্জাল এরকম করতে পারবে না। অতঃপর দাজ্জাল তাকে পাকড়াও করে আবার জবাই করার চেষ্টা করবে। কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তার গলায় জবাই করার স্থানটি তামায় পরিণত হয়ে যাবে। কাজেই দাজ্জাল তাকে জবাই করতে ব্যর্থ হবে। অতঃপর দাজ্জাল তাকে তার হাত-পা ধরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। লোকেরা মনে করবে, তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছে। অথচ সে জান্নাতে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই ব্যক্তি হবে পৃথিবীতে সেদিন মহাসত্যের সাক্ষ্য প্রদানকারী।

দাজ্জালের অনুসারীগণ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দাজ্জালের আগমন এর পর দাজ্জালের অধিকাংশ অনুসারী হবে ইহুদি এবং মহিলা। তিনি আরও বলেন, ইস্পাহানের সত্তর হাজার ইহুদি দাজ্জালের অনুসরণ করবে। তাদের সবার পরনে থাকবে সেলাই বিহীন চাদর। অশিক্ষিত লোকেরা মূর্খতার কারণে এবং দাজ্জালের পরিচয় সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার কারণে দাজ্জালের অলৌকিক ক্ষমতা দেখে ফিতনায় পড়ে যাবে। মহিলাদের ব্যাপারটিও অনুরূপ। তাদের অধিকাংশই যেকোনো জিনিস দেখে সহজেই প্রভাবিত হয়ে থাকে। দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচানোর জন্য পুরুষেরা নিজেদের অধীনস্থ নারীদেরকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখবে।

দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়

আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে নামাজের ভিতরে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাইতে শুনেছি। তিনি নামাজের শেষ বৈঠকে বলতেন, 

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের আজাব, জাহান্নামের আজাব, জীবন মরণের ফিতনা এবং মিথ্যুক দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।

আমরাও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুযায়ী প্রতি নামাযের শেষ বৈঠকে এ দুয়াটির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাইতে পারি।

এছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক জামানা আসবে, যখন মসজিদের মিম্বার থেকে দাজ্জালের আলোচনা বন্ধ হয়ে যাবে। আলিম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ কারো মুখেই আর দাজ্জালের আলোচনা শোনা যাবে না। মানুষ যেন দাজ্জালের কথা ভুলেই যাবে। আর ঠিক তখনই দাজ্জালের আগমন হবে।

ইমাম সাফারায়েনী (রহঃ) বলেন, প্রতিটি বিজ্ঞ মুসলিমের উচিত তার ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী-পরিবার এবং সকল নারী-পুরুষদের জন্য দাজ্জালের হাদিস গুলো বর্ণনা করা। বিশেষ করে ফিতনায় পরিপূর্ণ আমাদের বর্তমান জামানায়।

ইসলামকে সঠিকভাবে আঁকড়ে ধরা এবং ঈমানের উপর অটল থাকাই দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। যে মুমিন আল্লাহর নাম এবং তার অতুলনীয় সুমহান গুণাবলী সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে, সে অতি সহজেই দাজ্জাল কে চিনতে পারবে। দাজ্জাল নিজেকে প্রভু হিসেবে প্রমাণের দাবিতে যত বড় অলৌকিক ঘটনাই পেশ করুক না কেন, মুমিন ব্যক্তিদের কাছে এটি সুস্পষ্ট হবে যে, সে আর দশজনের মতোই একজন অক্ষম মানুষ, যে পানাহার করে, নিদ্রা যায় এবং মলমূত্র ত্যাগ করাসহ মানবীয় সমস্ত দোষ গুণ তার মধ্যে বিদ্যমান। সর্বোপরি, সে হবে একজন অন্ধ। পানাহারের প্রতি মুখাপেক্ষী, মানবীয় দোষ-ত্রুটি সম্পন্ন একজন অন্ধ ব্যক্তি কিভাবে আল্লাহ হতে পারে!

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি দাজ্জাল বের হওয়ার কথা শুনবে, সে যেন তার কাছে না যায়। আল্লাহর শপথ! এমন একজন লোক দাজ্জালের নিকটে যাবে, যে নিজেকে মনে করবে ঈমানদার। অতঃপর সে দাজ্জালের সাথে প্ররিত সন্দেহময় জিনিসগুলো ও তার কাজকর্ম দেখে বিভ্রান্তিতে পড়ে ঈমান হারিয়ে তার অনুসারী হয়ে যাবে। মুমিনের জন্য উত্তম হলো, সম্ভব হলে সে সময়ে মদিনায় অথবা মক্কায় বসবাস করার চেষ্টা করা। কারণ দাজ্জাল সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রতি শুক্রবার সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা হতে নিরাপদে থাকবে। কোন ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথমের অথবা শেষের অথবা যেকোনো দশটি আয়াত তেলাওয়াত বা মুখস্থ করলে, সেও দাজ্জালের ফিতনা থেকে হেফাজতে থাকবে।

দাজ্জালের শেষ পরিণতি

সহি হাদিসের বিবরণ অনুযায়ী, মক্কা ও মদিনা শহর ব্যতীত পৃথিবীর প্রতিটি দেশের প্রতিটি শহরে, প্রতিটি গ্রামে সে প্রবেশ করবে। তার অনুসারীদের সংখ্যা হবে অসংখ্য-অগণিত। সমগ্র দুনিয়ায় দাজ্জালের ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে। সামান্য সংখ্যক মুমিনই তার ফিতনা থেকে রেহাই পাবে। ঠিক এমন সময় সিরিয়ার দামেস্ক শহরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এক মসজিদের সাদা মিনার এর উপর ঈসা ইবনে মরিয়ম (আঃ) দুইজন ফেরেশতার ডানায় ভর করে আসমান থেকে অবতরণ করবেন। মুসলিমগণ তার সাথে একত্রিত হবেন। তাদেরকে সাথে নিয়ে ঈসা (আঃ) দাজ্জালের দিকে রওনা দিবেন। দাজ্জাল সে সময় বাইতুল মাকদিস এর দিকে অগ্রসর হতে থাকবে। অতঃপর ঈসা (আঃ) ফিলিস্তিনের লুদ্দ শহরের গেইটে দাজ্জালকে পাকড়াও করবেন। ঈসা (আঃ) কে দেখে সে পানিতে লবণ গলার ন্যায় গলতে শুরু করবে।

ঈসা (আঃ) তাকে লক্ষ্য করে বলবেন, তোমাকে আমি একটি আঘাত করব, যা থেকে তুমি কখনো রেহাই পাবে না।

ঈসা (আঃ) তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করবেন। অতঃপর মুসলমানেরা ঈসা (আঃ) এর নেতৃত্বে ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। মুসলমানদের হাতে দাজ্জালের অনুসারী ইহুদিদের দল পরাজিত হবে। তারা কোথাও পালিয়ে বাঁচার স্থান পাবে না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না, যতক্ষণ না মুসলিমরা ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।

অতঃপর মুসলিমরা ইহুদীদেরকে হত্যা করবে। ইহুদীরা গাছ ও পাথরের আড়ালে পালাতে চেষ্টা করবে। কিন্তু কেউ তাদেরকে আশ্রয় দিবেনা। গাছ ও পাথর বলবে, হে মুসলমান! হে আল্লাহর বান্দা! আমার পেছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে। আসো এবং তাকে হত্যা করো।

তবে 'গারকাদ' নামক গাছের পিছনে লুকালে গারকাদ গাছ কোন কথা বলবেনা। কেননা, এটি ইহুদিদের গাছ বলে পরিচিত।

চুরান্ত কথা

এই ছিল কিয়ামতের আরেকটি বড় আলামত তথা দাজ্জালের আগমন, দাজ্জালের ফিতনাসমূহ এবং দাজ্জাল থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা। কিয়ামতের আলামত নিয়ে এটি ছিল তৃতীয় পর্ব। কিয়ামতের সম্পুর্ন আলামত সম্পর্কে জানতে আমাদের কিয়ামত সিরিজ পেইজে চোখ রাখুন। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এ ফিতনার হাত থেকে নিজেকে ও নিজের ঈমানকে বাঁচাতে চাইলে, দাজ্জালের আগমনের পূর্ব থেকেই আমাদেরকে সর্তকতা অবলম্বন করে চলতে হবে, আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়ত আশ্রয় চাইতে হবে। আল্লাহ তাআলা দাজ্জালের ফিতনা থেকে আমাদেরকে ও আমাদের ঈমানকে হিফাজত করুন। আমিন। কিয়ামত সিরিজের পরবর্তী পর্বে থাকছে ঈসা ইবনে মরিয়ম (আঃ) এর আগমন।

Next Post Previous Post
4 Comments
  • ST FASHION & TECHNOLOGY
    ST FASHION & TECHNOLOGY ২৯ এপ্রিল, ২০২২ এ ২:২৭ AM

    Informative

    • Admin
      Admin ২৯ এপ্রিল, ২০২২ এ ৬:৩৮ PM

      Thanks

  • নামহীন
    নামহীন ২৯ এপ্রিল, ২০২২ এ ৩:০৪ AM

    Nice post

    • Admin
      Admin ২৯ এপ্রিল, ২০২২ এ ৬:৩৮ PM

      Thanks

Add Comment
comment url