ইমাম মাহদীর আগমন | কিয়ামতের বড় আলামত

কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে আমি "Islamic Solution - ইসলামিক কথা" এই ওয়েবসাইটে কিয়ামত সিরিজ পেইজে সুন্দর করে সাজিয়ে কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে পোষ্ট করছি। কিয়ামতের আলামত দুই ধরনের। এক ছোট আলামত, দুই বড় আলামত। কিয়ামতের ছোট আলামত সম্পর্কে আমরা কিয়ামত সিরিজের প্রথম পর্বে আলোচনা করেছি। আমরা আজকে কিয়ামতের বড় আলামত এবং ইমাম মাহদীর আগমণ সম্পর্কে জানব।

ইমাম মাহদীর আগমন,ইমাম মাহদী আগমনের আলামত,ইমাম মাহদী,ইমাম মাহদীর আগমনের আলামত,ইমাম মাহদী আগমনের বড় আলামত,কিয়ামতের বড় আলামত,ইমাম মাহদী কবে আসবে,ইমাম মাহাদী,ইমাম মাহদী আসার আলামত,ইমাম মাহদীর পরিচয়,কিয়ামতের বড় আলামত,ইমাম মাহদীর আগমণ,কিয়ামতের আলামত,কেয়ামতের আলামত,কিয়ামতের আলামত,ইমাম মাহদী কে,ইমাম মাহদীর আগমন মিজানুর রহমান,কেয়ামতের বড় আলামত,কিয়ামতের আলামত কয়টি ও কি কি,ইমাম মাহদীর আগমণের স্থান,ইমাম মাহদীর পরিচয়,আরবে ইমাম মাহদীর আগমনের বড় আলামত

কিয়ামতের বড় আলামত

হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, "একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আগমন করলেন। আমরা তখন কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন: যতদিন তোমরা ১০ টি আলামত না দেখো তত দিন কেয়ামত হবে না।"

কিয়ামতের বড় আলামত হলো ১০ টিঃ

  • ধোঁয়া
  • দাজ্জালের আগমন
  • ভূগর্ভ থেকে নির্গত দাব্বাতুল আরদ নামক এক অদ্ভুত জানোয়ারের আগমন
  • পশ্চিমাকাশে সূর্যোদয়
  • ঈসা ইবনে মারইয়ামের আগমন
  • ইয়াজুজ-মাজুজ এর আবির্ভাব
  • পূর্বে ভূমিধ্বস
  • পশ্চিমে ভূমিধ্বস
  • আরব উপদ্বীপে ভূমিধ্বস
  • এবং সর্বশেষ ইয়ামান থেকে একটি আগুন বের হয়ে মানুষকে সিরিয়ার দিকে হাঁকিয়ে নিবে।

ইমাম মাহদীর আগমন

আখেরি জামানায় ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশ হবে কেয়ামত এর সর্বপ্রথম বড় আলামত। তিনি আগমন করে এই উম্মাতের নেতৃত্তের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। ইসলাম ধর্মকে সংস্কার করবেন এবং ইসলামী শরীয়তের মাধ্যমে বিচার ফয়সালা করবেন। পৃথিবী থেকে জুলুম-নির্যাতন দূর করে তা ন্যায়-ইনসাফ দিয়ে ভরে দিবেন। উম্মতে মোহাম্মাদী তার আমলে বিরাট কল্যাণের ভিতর থাকবে।

ইমাম ইবনে কাছীর (রঃ) বলেন, তখন ফল-ফলাদি তে প্রচুর বরকত হবে, মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, ইসলাম বিজয়ী হবে, ইসলামের শত্রুরা পরাজিত হবে এবং সকল প্রকার কল্যাণ বিরাজ করবে। তার নাম হবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামের মতই এবং তার পিতার নাম হবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর পিতার নাম এর মতই। তিনি হবেন হাসান বিন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বংশ থেকে। ইবনে কাছীর (রঃ) আরো বলেনঃ তিনি হলেন মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাতেমী আল-হাসানী।

ইমাম মাহাদী পূর্বের কোন একটি অঞ্চল থেকে প্রকাশিত হবেন। তবে পূর্বদিক বলতে মদিনা মুনাওয়ারা থেকে পূর্বের দিক বোঝানো হয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের গুপ্তধনের নিকট তিনজন লোক ঝগড়া করবে। প্রত্যেকেই হবে খলিফার পুত্র। তবে কেউ তা দখল করতে পারবে না। অতঃপর পূর্বের দিক থেকে কালো পতাকা ধারী একদল সৈন্য আসবে। তারা ব্যাপক হত্যাকান্ড চালাবে। হাদীসের বর্ণনাকারী বলেনঃ এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এমন কিছু বিষয়ের কথা বর্ণনা করলেন যা আমি স্মরণ রাখতে পারিনি। এরপর বললেন, তোমরা যখন তাদেরকে দেখতে পাবে তখন তাদের নেতার হাতে বায়আত গ্রহণ করবে। যদি বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়েও উপস্থিত হতে হয় তবুও। কেননা তিনি হলেন আল্লাহর খলিফা মাহদী।

আরও পড়ুনঃ

ইমাম ইবনে কাছীর (রঃ) বলেনঃ উল্লেখিত হাদিসে যে ধন-ভান্ডারের কথা বলা হয়েছে তা হল কা'বা ঘরের ধন-ভান্ডার। তিনজন খলিফার পুত্র তা দখল করার জন্য লড়াই করবে। কেউ দখল করতে পারবে না। সবশেষে আখেরি জামানায় পূর্বের কোন একটি দেশ থেকে ইমাম মাহাদী আগমন করবেন। পূর্বাঞ্চলের লোকেরা তাকে সাহায্য করবে এবং তার শাসন কে সমর্থন করবে। তারা কালো পতাকাধারী হবেন। মোটকথা আখেরি জামানায় পূর্বদেশ থেকে ইমাম মাহাদীর বের হওয়া সত্য। কা'বা ঘরের পাশে তার জন্য বায়আত করা হবে।

ইমাম মাহাদীর আগমনের ব্যাপারে অনেক সহি হাদিস রয়েছে। কোন কোন হাদিসে প্রকাশ্যভাবে তার নাম উল্লেখ আছে। আবার কোন কোন হাদিসে তার গুণাগুণ উল্লেখিত হয়েছে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আখেরি জামানায় আমার উম্মতের ভিতর মাহদীর আগমন ঘটবে। তার শাসনকালে আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে, জমিন প্রচুর ফসল উৎপন্ন করবে, তিনি মানুষের মাঝে সমানভাবে প্রচুর সম্পদ বিতরণ করবেন, গৃহপালিত পশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং উম্মাতে মুহাম্মাদীর সম্মান বৃদ্ধি পাবে। তিনি সাত বছর কিংবা আট বছর জীবিত থাকবেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি তোমাদেরকে মাহাদির আগমন সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছি। মানুষেরা যখন মতবিরোধে লিপ্ত হবে তখন তিনি প্রেরিত হবেন। পৃথিবী থেকে জুলুম-নির্যাতন দূর করে ন্যায়-ইনসাফ দ্বারা তা ভরে দিবেন। আসমান-জমিনের সকলেই তার উপর সন্তুষ্ট হবেন। তিনি সবার মাঝে সমানভাবে প্রচুর সম্পদ বিতরণ করবেন।

উম্মে সালামা (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, মাহদীর আগমন হবে আমার পরিবারের ফাতেমার বংশধর থেকে।

জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈসা (আঃ) যখন অবতরণ করবেন তখন মুসলমানদের আমির ইমাম মাহদি তাকে বলবেন, আসুন আমাদের নামাজের ইমামতি করুন। ঈসা (আঃ) বলবেনঃ বরং তোমাদের আমীর তোমাদের মধ্যে থেকেই হওয়া দরকার। মূলত এই উম্মতের সম্মানের কারণেই ঈসা (আঃ) এ মন্তব্য করবেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সেদিন কেমন হবে তোমাদের অবস্থা যেদিন তোমাদের মধ্যে ঈসা ইবনে মারইয়াম নেমে আসবেন এবং তোমাদের মধ্য থেকেই একজন ইমাম হবেন। অর্থাৎ তোমাদের সাথে জামাতে শরিক হয়ে ঈসা (আঃ) তোমাদের ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করবেন।

আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ একরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমের ঘোরে এলোমেলো কিছু কাজ করলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ জাগ্রত হলে আমরা তাকে বললাম, ঘুমের মধ্যে আপনি আজ এমন কিছু কাজ করেছেন যা অতীতে কখনো করেন নি।

তিনি বললেন, কা'বা ঘরের পাশে একজন লোক অর্থাৎ ইমাম মাহাদী আশ্রয় নিবে। আমার উম্মতের একদল লোক কা'বার পাশে আশ্রয়গ্রহণকারী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। আক্রমণকারীরা যখন 'বায়দা' নামক স্থানে পৌঁছবে তখন তাদেরকে নিয়ে জমিন ধসে যাবে।

আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, তখন তো রাস্তায় বিভিন্ন ধরনের লোক থাকবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের ভেতর এমন লোক থাকবে যারা নিজেদেরকে গোমরাহ জেনেও বের হবে, কাউকে বলপ্রয়োগ করে আনা হবে এবং তাদের মধ্যে মুসাফিরও থাকবে। তারা সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে কেয়ামত দিবসে সকলকেই আল্লাহ তাআলা তাদের নিয়তের উপর পুনরুত্থিত করবেন। তাদেরকে নিয়তের উপর পুনরুত্থিত করার অর্থ তাদের কেউ জান্নাতে যাবে আবার কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে। যারা নিজেদের ভ্রান্ত জেনেও ইমাম মাহদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বের হবে তারা জাহান্নামী হবে। আর যাদেরকে বাধ্য করে আনা হবে তাদের কোন অপরাধ হবে না। এমনিভাবে পথিক ও পার্শ্ববর্তী স্থানের লোকেরাও ভূমিধস থেকে রেহাই পাবে না। কিন্তু সকল শ্রেণীর লোক নিজ নিজ আমল নিয়ে কেয়ামত দিবসে পুনরুত্থিত হবে।

এই তিনটি হাদিস থেকে জানা যায়, ইমাম মাহদী কা'বার প্রান্তে আশ্রয় গ্রহণ করবেন এবং তিনি হবেন কুরাইশ বংশের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্ত হবেন এবং তার শত্রুদেরকে আল্লাহ তাআলা ভূমিধসের মাধ্যমে ধ্বংস করবেন।

হাদিসের রেফারেন্স অনুযায়ী ইমাম মাহাদী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কথা হল, কেয়ামতের পূর্বে আমাদের উম্মতের মধ্যে একজন সৎ লোক আগমন করবেন। মাকামে ইব্রাহিম এবং রুকনে ইয়ামানীর মধ্যবর্তী স্থানে মুসলমানগন তার হাতে বায়আত করবে। তাকে হত্যা করার জন্য সিরিয়া থেকে একদল সৈন্য প্রেরণ করা হবে। সৈন্যদলটি যখন মক্কার পথে 'বায়দা' নামক স্থানে পৌঁছবে তখন ভূমিধসে সকল সৈন্য ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা ইমাম মাহাদী কে এভাবে তার শত্রুর হাত থেকে হেফাজত করবেন। তিনি মুসলমানদের খলিফা হয়ে ইসলামের মাধ্যমে বিচার ফয়সালা করবেন। তার জামানায় মুসলমানদের মাঝে চরম সুখ শান্তি ও নিয়ামত বিরাজ করবে। অতঃপর তিনি দামেস্কের মসজিদে ফজরের নামাজের সময় ঈসা (আঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করবেন। প্রথমে তিনি ঈসা (আঃ) কে নামাজের ইমামতি করার অনুরোধ জানাবেন। উত্তরে ঈসা (আঃ) বলবেন, বরং আপনাদের আমির আপনাদের মধ্যে থেকেই হোক। এরপর স্বয়ং ইমাম মাহাদী নামাজের ইমামতি করবেন। ঈসা ইবনে মরিয়াম (আঃ) ইমাম মাহদীর পিছনে মুক্তাদী হয়ে নামাজ আদায় করবেন।

অতঃপর তিনি ঈসা (আঃ) এর সাথে যোগ দিয়ে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বের হবেন এবং দাজ্জাল এবং তার বাহিনীকে হত্যার কাজে ঈসা (আঃ) কে সহায়তা করবেন। তারপর তিনি সাত বছর মতান্তরে নয় বছর সমস্ত পৃথিবী শাসন করে মৃত্যুবরণ করবেন। মুসলিমগণ তার জানাযার নামাজ পড়বে।

চুরান্ত কথা

এই ছিল কিয়ামতের বড় আলামত ও ইমাম মাহদীর আগমন নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা। কিয়ামতের আলামত নিয়ে এটি ছিল দ্বিতীয় পর্ব। কিয়ামতের সম্পুর্ন আলামত সম্পর্কে জানতে আমাদের কিয়ামত সিরিজ পেইজে চোখ রাখুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নেক হেদায়েত দান করুন এবং আমাদের সবাইকে মাফ করুন। কিয়ামত সিরিজের পরবর্তী পর্বে থাকছে দাজ্জালের আগমন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url