ইসলামে নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

ইসলামে নারী শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আমি "Islamic Solution - ইসলামিক কথা" এই ওয়েবসাইটে সুন্দর করে হাদিস ও কোরআন থেকে সাজিয়ে একটি পোষ্ট করছি। আমরা আজকে ইসলামে নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানব। ইনশাআল্লাহ।

ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব,ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য,ইসলামে নারী শিক্ষার গুরুত্ব,ইসলামী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা,ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা,ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ওয়াজ,ইসলামী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব,ইসলামে পুরুষ ও নারী শিক্ষার গুরুত্ব,ইসলামী দাওয়াতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা,ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও ফজিলত,ছেলে মেয়েদের ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য,ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব,নারী শিক্ষার গুরুত্ব,ইসলামে নারী শিক্ষা

স্পেনের আন্দালুসিয়া শহর। মুসলিম শাসনামল। তৎকালীন খলিফা তার ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্রী খুঁজছেন। তিনি যেনতেন মেয়ের সাথে ছেলের বিয়ে দিতে চান না। তিনি জ্ঞানী মেয়ে খুঁজছেন। তাই খলিফা কর্ডোভা শহরে ঘোষণা করলেন, কোন পরিবারে যদি বিয়ের উপযোগী মেয়ে থাকে, সে যদি বিয়ে করতে ইচ্ছুক হয় এবং সে যদি কোরআনের হাফেজা হয়, তাহলে সে যেন তার জানালার পাশে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখে।

দিন গড়িয়ে আঁধার নেমে এলো। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, সেই রাতে পুরো শহর আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। কারণ সেখানে এত পরিমান তরুণী ছিল যাদের পুরো কুরআন মুখস্থ ছিল। খলিফা অবস্থা দেখে বললেন, আলহামদুলিল্লাহ খুবই ভালো। কিন্তু আমার ছেলে তো এত মেয়ে বিয়ে করতে পারবে না।

তাই তিনি পরদিন আবার ঘোষণা দিলেন, যাদের বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে আছে এবং তার কোরআনের পাশাপাশি মালিকী ফিকহ বা ইসলামী গভীর জ্ঞানের কোন বই মুখস্থ আছে, তারা যেন জানালার পাশে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখে। বলা হয়ে থাকে আগের দিনের মত না হলেও প্রায় পুরো শহর আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। কারণ তারা কোরআনের পাশাপাশি ফিকহের জ্ঞানও সেই পরিমাণ আয়ত্ত করত, সুবাহানাল্লাহ।

আমার ভয় হয়, যদি আমাদের বর্তমান গোটা উম্মাহকে আজ এমন একজন নারী খুঁজে বের করতে বলা হয় যার কুরআন এবং ফিকহের একটি বই মুখস্থ আছে- জানালার পাশে একটি প্রদীপও হয়তো আমরা জ্বলতে দেখব না। এটা আমাদের উম্মাহর বর্তমান অবস্থার কথা বলে দেয়।

এটি একটি সংকেত দেয়, যখন উম্মাহর নারীরা শিক্ষিত থাকে তখন উম্মাহ শক্তিশালী হয়। পুরুষরা তো শিক্ষিত হতেই হবে, কারণ তারা ইমাম। কিন্তু উম্মাহর সত্যিকারের পরীক্ষা হল নারীদের শিক্ষিত করা।

মহানবী (সাঃ) এর কাছে পুরুষ সাহাবিরা যেমন জ্ঞান শিখতেন, তেমনি মহিলা সাহাবিরাও জ্ঞান লাভ করতেন। রাসুল (সাঃ) কে শিক্ষানুরাগী মহিলারা একবার বললেন, জ্ঞান শিক্ষার কাজে আপনি সর্বদা পুরুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকেন। আমাদের জন্যও একটি দিন নির্ধারণ করুন। রাসুল (সাঃ) সে অনুযায়ী তাঁদের জন্য আলাদা শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। রাসুল (সাঃ) উম্মাহতুল মুমিনীনের লেখা শেখার ব্যবস্থা করেছিলেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত হাফছা (রাঃ), হযরত আয়েশা (রাঃ) এবং অন্যান্য মহিলা সাহাবীরা লিখতে জানতেন।

হযরত আয়েশা (রাঃ) সমকালীন শিক্ষা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন তা বোঝা যায় নিম্নোক্ত বর্ণনা থেকেঃ

হযরত ওরওয়া বিন যোবায়ের তাঁর খালা সম্পর্কে বলেন, ফারায়েযের ইলম, হালাল-হারামের মাসায়েল এবং কোরআনের ইলমের ক্ষেত্রে হযরত আয়েশা (রাঃ) এর চেয়ে বড় আলিম আমি আর দেখিনি।

হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর মর্যাদা ছিলো অনেক পুরুষ সাহাবীদেরও উপরে। হাদীসের কিতাবসমূহের মধ্যে হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা 2210, যা সকল সাহাবীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রসিদ্ধ তাবেঈ হযরত মসরূক বলেন, আল্লাহর কসম, বড় বড় সাহাবাকে আমি আয়েশা (রাঃ) এর কাছে মিরাজের মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি। সাহাবীরা যখনই কোন মাসআলার ব্যাপারে সন্দেহে পড়তেন বা সমস্যায় পড়তেন তখনই তারা পর্দার আড়াল থেকে হযরত আয়েশা (রাঃ) এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করতেন এবং সঠিক সমাধান পেয়ে যেতেন।

মহানবী (সাঃ) অনেক হাদিসে নারীদের শিক্ষা-দীক্ষা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। শিক্ষা পুরুষের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি নারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষেরা যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতেন, তেমনি নারীরাও পেতেন। শুধু অভিজাত নারীরাই নয়, গৃহপরিচারিকাদেরও শিক্ষিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুখারীতে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যার একজন দাসী থাকে এবং সে তাকে শিক্ষা দেয়, সুশিক্ষার ব্যবস্থা করে, ভদ্রতা ও শালীনতার শিক্ষা দেয় এবং তাকে মর্যাদা দেয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার।"

মদীনায়, অমিয় বাগদাদী নামে এক মহিলাকে ইমাম মালিক (রহঃ) কর্তৃক ‘ইলমে হাদীস’ এবং ইমাম শাফেঈ (রহঃ) ‘ইলমে ফিকহ’ শিখিয়েছিলেন। এভাবে ইসলামের প্রাথমিক যুগে নারীরা হাদিস, তাফসির ও ফিকহের বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করে দ্বীনের প্রচারে আত্মনিয়োগ করে। আর এই শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রচারণা পর্দাহীনভাবে হয়নি। বরং পর্দার মাধ্যমেই হয়েছে। ‘মাদখাল’ গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, অতীতে মুসলিম মনীষীদের স্ত্রীগণ ইসলামি আইন সম্পর্কে লেখালেখি করে নারীদের প্রচার ও শিক্ষাদানে আত্মনিয়োগ করেছেন। ফলে তাদের গর্ভে বড় বড় আলেম, ফকীহ ও ইমামের জন্ম হয়। যার উদাহরণ বর্তমান বিশ্বে বিরল। পর্দার দোহাই দিয়ে নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে পুরুষের মতো সুযোগ-সুবিধা নেই। স্বাভাবিকভাবেই তাদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত। তাই পুরুষদের মতো নারীদেরও বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থা থাকা দরকার। মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ) বলেন: "এই সমস্ত ফিতনা বা অসুবিধার জন্য শিক্ষা দায়ী নয়, বরং শিক্ষাদান পদ্ধতি বা পাঠ্যক্রম বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনাই একমাত্র দায়ী।"

এখন আমরা নিজের চোখেই দেখছি, বিশ্বের অনেক জায়গায় নারীরা মসজিদেও যেতে পারে না, বিভিন্ন অযৌক্তিক ফতোয়া দিয়ে তাদের মসজিদে যাওয়া বন্ধ করা হয়েছে, অথচ নামাজ নারী পুরুষ সবার জন্যই ফরজ এবং মসজিদেই পড়া উত্তম।

তাদের শিক্ষিত করা তো দূরের কথা, তাদেরকে রান্না শেখানো হয়, ছবক দেয়া হয় কিভাবে ঘর পরিষ্কার করতে হবে, মাশাআল্লাহ, খালাস! আমাদের কি এটাই যথেষ্ট?

মোটেই না, সন্দেহ নেই যে তাদের অবশ্যই শিক্ষিত হতে হবে। এ জন্যই আন্দালুসিয়া পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য উচ্চ শিখরের প্রতীক। দরকার হলো ইসলামকে জানা। আমরা বলছি না শুধুই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে, শুধুই সাইন্স, কমার্স, আর্টস পড়তে হবে। আমরা ইসলাম সম্পর্কে বলছি। আমরা বলছি তাকে ইসলামের ভিতরে যেতে হবে এবং গোটা দ্বীনকে জানতে হবে।

মেয়ে শিক্ষিত হওয়া জরুরী কেননা একটি মেয়ে একটি পরিবারকে গড়ে তুলবে। একজন বাবা সব সময় বাসায় থাকেন না সন্তান লালন পালনের জন্য, মা হয়তো সবচেয়ে বেশি সন্তানের কাছাকাছি থাকতে পারেন। তিনি যদি দ্বীন সম্পর্কে নাই জানেন, তার সন্তানদের কি জানাবেন? নারীর শিক্ষাই মূলত উম্মাহ অবস্থার মাপকাঠি। আর বাস্তবেও উম্মাহ হিসেবে আমরা অনেক অসুস্থ। এই প্রজন্মের নারী পুরুষ ইসলাম সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানে না, বেশিরভাগই অজ্ঞ।

আমরা কতজন আয়াতের অর্থ জেনে বুঝে নামাজ আদায় করি? আমাদের পরিস্থিতির পরিবর্তন করতেই হবে। আর নিজেদেরকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করার মাধ্যমেই সেটা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সহায় হোন।

পোস্টটি যে কোন সোশাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন।

"কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াব এর অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবে না" [সহিঃ মুসলিম- ২৬৭৪]

ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব,ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য,ইসলামে নারী শিক্ষার গুরুত্ব,ইসলামী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা,ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা,ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ওয়াজ,ইসলামী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব,ইসলামে পুরুষ ও নারী শিক্ষার গুরুত্ব,ইসলামী দাওয়াতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা,ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও ফজিলত,ছেলে মেয়েদের ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য,ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব,নারী শিক্ষার গুরুত্ব,ইসলামে নারী শিক্ষা

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url