Jinnah's Only Lost Case । ইসলামের এক বীরের জানাজা । জিন্নাহ'স অনলি লস্ট কেইস

Jinnah's Only Lost Case - এই নিয়ে আমি "Islamic Solution - ইসলামিক কথা" এই ওয়েবসাইটে সুন্দর করে সাজিয়ে একটি পোষ্ট করছি। আমরা আজকে ইসলামের এক বীরের জানাজা সম্পর্কে জানব। ইনশাআল্লাহ।

Jinnah's Only Lost Case, ইসলামের এক বীরের জানাজা, dina jinnah in pakistan,dina jinnah,dina jinnah religion,dina jinnah daughter of quaid-e-azam,dina wadia hamid mir,cost,pastor,dina wadia,middle east,dina wadia interview,dina wadia death date,pakistan's largest city,din,best,canine,videos,family,working,service,fittest,corpses,mystery,training,pakistan,interview,lifestyle,journalism,vice videos,independent,vice magazine,vs belgian malinois,urdu,quaid e azam,german shepherd

৩১ শে অক্টোবর ১৯২৯ সাল, আজ থেকে ঠিক ৯১ বছর আগে এই উপমহাদেশে একটি ফাঁসির আদেশ বাস্তবায়িত হয়- এক কাঠমিস্ত্রির ১৯ বছর বয়সী অশিক্ষিত ছেলের। কিন্তু তার ফাঁসি ও পূর্বাপর ও পরবর্তী ঘটনা ছিল উপমহাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত বিক্ষোভময় ঘটনা। এমনকি এই ঘটনা হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতি, ব্রিটিশবিরোধীতায় অগ্রগণ্যতা এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় অগ্রগামিতা এনে দেওয়ার অন্যতম অনুঘটকের কাজ করে।১৯০৫ সালে ইংরেজ সরকার বাংলা কে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার নিমিত্তে বাংলাকে দুই ভাগ করে, যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।

পূর্ববাংলা অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ ও আসাম নিয়ে একটি প্রদেশ করে, যার রাজধানী করা হয় ঢাকাকে। রাজধানী ঢাকা হলে মুসলিমরা লাভবান হবে এই হিংসায় কলকাতার অমুসলিমরা সর্বাত্বক বিরোধিতা করে। এরপর থেকে হিন্দু-মুসলিম তিক্ততা কেবল বাড়তেই থাকে।

১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়। একইসাথে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে সরিয়ে দিল্লিতে নেওয়া হয়। কলকাতার এত বড় ক্ষতি হওয়ার পরও কলকাতার অমুসলিমরা আনন্দ উল্লাস করতে থাকে। ব্রিটেনের রাজার উদ্দেশ্যে পুজো দেয়। এই উল্লাসের একটাই কারণ সেটা হল মুসলিমদের সম্ভাব্য উন্নয়ন বা অগ্রগতির ঠেকানো গেছে। নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গ করার মনে হয় সবচেয়ে পারফেক্ট উদাহরণ এটিই।

১৯২৩ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় একটি বই প্রকাশিত হয় 'রঙ্গিলা রাসুল' নামে। এখানে 'রঙ্গিলা' অর্থ ছিল 'প্রমোদবালক' বা 'প্লে বয়' অর্থে। বইটির লেখক ছিলেন প্রসাদ প্রতাপ, লিখেছিলেন ছদ্মনাম 'চামুপতি পন্ডিত' নামে। রাজপাল নামে লাহোরের এক হিন্দু পুস্তক ব্যবসায়ী ১৯২৩ সালে বইটি প্রকাশ করে, লেখক এর প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ না করার ঘোষণা দিয়ে। সারা ভারতের মুসলিমদের মধ্যে বইটি চাঞ্চল্য তৈরি করে।

এ নিয়ে বিক্ষোভ চরমে পৌঁছালে লাহোর সেশন কোর্টে মুসলিম আইনজীবীরা মামলা করেন। আদালত রাজপালকে দোষী হিসেবে সাব্যস্ত করে। তাকে 'দাঙ্গা' বাধানোর প্রচেষ্টায় দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেয় সেশন কোর্ট। তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিল আদালতে এর শুনানি করেন জাজ দিলীপ সিং। দিলীপ সিং তার সংক্ষিপ্ত রায়ে উল্লেখ করেন, 'এটা ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের সেকশন ১৫৩ লংঘন করে না। অর্থাৎ তাকে দাঙ্গা সৃষ্টির অভিযোগ থেকে অদ্ভুত এক রায়ের মাধ্যমে মুক্তি দেওয়া হয়। মুহাম্মদ (সাঃ)-কে ব্যঙ্গ করা কে ইংরেজরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করে। এটি পক্ষপাতপূর্ণ রায় হিসেবে ব্যাপক সমালোচিত হয়। এই ঘটনা লাহোর থেকে ঢাকা সর্বত্রই মুসলিমদের কাছে ঘৃণ্য বলে পরিগণিত হয়। বিক্ষোভ, মিছিল, সিরাত সম্মেলন চলতে থাকে।

ইলমুদ্দিন নামে এক ১৯ বছর বয়সী এক কাঠমিস্ত্রির ছেলে তার বন্ধুদের সাথে লাহোরের মসজিদ ওয়াজিরখানে নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষে মসজিদে এই বিষয়ে ভাষণ শোনেন। যেখানে ইসলামের নবীকে অমর্যাদাকারি ধর্মদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছিল। মহানবী (সাঃ)-এর অপমানে ও বিচার না পাওয়ায় অসহায়ভাবে কেঁদে ফেললেন খতিব সৈয়দ আতাউল্লাহ শাহ বুখারী। নবীপ্রেম আর আতাউল্লাহ শাহের অসহায়ত্ব ভীষণ নাড়া দেয় ইলমুদ্দিনকে। এরপর সে লাহোরের উর্দু বাজারে রাজপালের দোকানে যায় এবং রাজপালকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।

হত্যার পর ইলমুদ্দিন পালিয়ে যাবার কোনো চেষ্টাই করেনি। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং মিয়ানওয়ালী কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। ইলমুদ্দিন রাজপালকে হত্যা করে বই প্রকাশের ছয় বছর পর। এখানে উল্লেখ্য, ইলমুদ্দিন কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার চিন্তা বা ইচ্ছা করেনি। সে নবীর অবমাননাকারীকে হত্যা করার মাধ্যমে তার দায়িত্ব সম্পন্ন করেছে। এমনটাই ছিল তার মনোভাব। কিন্তু মুসলিম আইনজীবীরা ও রাজনীতিবিদেরা তাকে বাঁচানোর সর্বশেষ চেষ্টাটুকু করেছেন।

মহাকবি আল্লামা ইকবাল, ব্যারিস্টার মঈনউদ্দিন খানসহ অসংখ্য মুসলিম আইনজীবী তার পক্ষে মাঠে নামে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তার ডিফেন্স ল'ইয়ার হিসেবে মামলা হাতে নিলেন। যদিও জিন্নাহ ইতোপূর্বে কখনো মামলায় হারেননি-তিনি জানতেন এটি সম্ভবত তাঁর প্রথম হার।

এইজন্য এই মামলা জিন্নাহ'স অনলি লস্ট কেইস (Jinnah's only lost case) নামেও পরিচিত।

সেশন কোর্ট ফাঁসির আদেশ দিলেও- উচ্চ আদালতে তা নাকচ হয়ে যায়। জিন্নাহ পুরো ঘটনার জন্য উত্ত্যক্তকারীদের দায়ী করে যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন। কিন্তু জিন্নাহর কোনো যুক্তিই গ্রাহ্য করেনি ব্রিটিশ আদালত। এরপর পরিস্থিতি উল্লেখ করে জিন্নাহ এই বলে আবেদন করেন যে, ইলমুদ্দিন একজন ১৯ বছরের তরুণ যিনি তার বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠাতার প্রতি ভালোবাসার কারণে উত্ত্যক্ত হয়েছিলেন। তাই তার মৃত্যুদন্ডকে যাবজ্জীবন অথবা দ্বীপান্তরে বদলানো যেতে পারে। কিন্তু এই আবেদনও আদালতে গৃহীত হয়নি।

রাজপাল এর বিচার ছয় বছরেও শেষ করা যায়নি সেখানে মাত্র ছয় মাসে ইলমুদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর করার সমস্ত আয়োজন শেষ করে ফেলে। এই হল ব্রিটিশদের সুবিচারের নমুনা। ১৯২৯ সালের ৩১ অক্টোবর ইলমুদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

ইংরেজরা তড়িঘড়ি করে মিয়ানওয়ালীতে ইলমুদ্দিনকে জানাজা ছাড়াই কবর দিয়ে দেয়। যদিও ইলমুদ্দিনের পরিবার ও মুসলিমরা তার লাশকে লাহোরে দাফন করতে চেয়েছিল। ব্রিটিশরা ভয় পেয়েছিল যে, ইলমুদ্দিনের লাশ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি করবে যা হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা তৈরি করতে পারে।

আল্লামা ইকবাল, মইন আব্দুল আজিজ প্রমুখ সর্বজনমান্য মুসলিম নেতারা প্রতিবাদ শুরু করেন। করাচির লোকেরাও তাকে করাচিতে ফেরত চাইতে থাকে। অবস্থা অবনতির দিকে গেলে ব্রিটিশ সরকার লাশ উত্তোলনের অনুমতি দেয়। ১৫ দিন পর ১৪ নভেম্বর লাশ উত্তোলন করা হয়-অথচ বিস্ময়ের ব্যাপার ছিল তাঁর দেহে না পচন ধরেছিল, না দুর্গন্ধ ছিল, না তাঁর কাফনের কাপড়েও কোন পরিবর্তন ঘটেছিল। দুইদিন পরে লাশ লাহোর পৌঁছায়। পথে লাখ লাখ লোক তাকে শ্রদ্ধা জানায়। সমস্ত শহর এবং আশেপাশের অনেক অঞ্চল থেকে মুসলিমরা তার জানাজায় আসে।

ইলমুদ্দিনের বাবা মহাকবি আল্লামা ইকবালকে জানাজার নামাজ এর ইমাম হতে বলেন। কিন্তু আল্লামা ইকবাল সেটা করতে চাননি। তিনি বলেন,"আমি একজন পাপী ব্যক্তি, ইসলামের এই বীরের জানাজার নামাজের ইমাম হওয়ার যোগ্যতা আমার নেই"। প্রায় ছয় লক্ষ মুসলিম এই জানাজায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। জানাজা পড়িয়েছেন সৈয়দ দিদার আলী শাহ। কবি এবং সাংবাদিক মাওলানা জাফর আলী সেখানে ছিলেন। তিনি বলেন, "হায়! যদি আমি এরকম এক আশীর্বাদপুষ্ট সম্মান অর্জন করতে পারতাম!"

মহাকবি আল্লামা ইকবাল এই লাশ বহন করে নিয়ে যান। যখন আল্লামা ইকবাল এই লাশটিকে তার কবরে রাখতে যাচ্ছিলেন তখন বলেন, "এই অশিক্ষিত তরুণটি আমাদের মত শিক্ষিতদের ঈমানকে ছাড়িয়ে গেছে।"

পোস্টটি যে কোন সোশাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন।

"কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াব এর অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবে না" [সহিঃ মুসলিম- ২৬৭৪]

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url