নারীরা বিপথে যাচ্ছে কিন্তু এর দায় কার?

নারীরা বিপথে যাচ্ছে কিন্তু এর দায় কার? এই নিয়ে আমি "Islamic Solution - ইসলামিক কথা" এই ওয়েবসাইটে সুন্দর করে সাজিয়ে একটি পোষ্ট করছি। আমরা আজকে নারীরা বিপথে যাচ্ছে কিন্তু এর জন্যে দায়ী কে? সে সম্পর্কে জানব। ইনশাআল্লাহ।

নারীরা বিপথে যাচ্ছে কিন্তু এর দায় কার?

অনেকে বলে "ভাই, এগুলো কি দেখছি? আমাদের বোনেরা এসব কি করছে?" তাদের লজ্জা দিন দিন কমে যাচ্ছে, তারা যেভাবে খুশি চলছে, পোশাকের কোন ঠিক নেই। সত্যি বলতে আমিও এ কথায় একমত। বাইরে যা দেখি সত্যিই দুঃখজনক।

কিন্তু আমার মনে প্রশ্ন জাগে "এ জন্য কে দায়ী? এর দায় কার?"

নারীরা কি পথ হারিয়ে ফেলেছে? হ্যাঁ, অবশ্যই। কিন্তু এজন্য কাকে দোষারোপ করব? কারণ একদিকে অবশ্যই বোনেরা বিপথে যাচ্ছে কিন্তু পুরুষদের দিকে তাকিয়ে দেখুন!!!

যে ভাই অন্য নারীর বিপথে যাওয়ার কথা বলে সে একই ভাই, তার হিজাব পরা ও ঠোঁটে লাল লিপস্টিক দেয়া স্ত্রীর সাথে হাসিমুখের ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোফাইল পিকচার হিসেবে সেই ছবি আপলোড দেয়। যাদের সাথে সেই ভাইয়ের বন্ধুত্ব আছে তারা টয়লেটে বসে ফোন টিপে আর তার স্ত্রীর দিকে নজর দেয়। না! আমি হালাল-হারামের কথায় যাচ্ছি না। না একদমই না।

আরেক ভাই তার স্ত্রী সহ আমার কাছে আসে, আর আমি বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। আমি আবারো বলছি, এটি হালাল হারামের ব্যাপার নয়। সে আমাকে সালাম দিয়ে তার স্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেয়। তার স্ত্রী আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে "ভাই, আসসালামু আলাইকুম"। আমি ভাবি কার দিকে অগ্রসর হবো? তার দিকে? নাকি তার স্ত্রীর দিকে? নাকি দুজনের দিকেই? তার স্ত্রী আমার দিকে এগিয়ে আসে আর সেই লোক হাসে। সেই ভাই কিন্তু খারাপ মানুষ নয়। আসলে সমাজের সত্যিকারের পুরুষ না থাকার কারণে সম্মান, লজ্জা এগুলো হারিয়ে গিয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতে মাত্র একজন পুরুষই যথেষ্ট।

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রাসূল (সাঃ) এর কাছে এলেন এবং বললেন-

হে আল্লাহর রাসূল, নারী-পুরুষরা একসাথে মেলামেশা করছে, একে অন্যের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে, এই বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগে না।

ঠিক এরপরের দিনই আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন, আর কিয়ামত পর্যন্ত নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য পর্দাকে ফরজ করে দেন।

আমাদের নারীরা বিপথে গেছে কিন্তু এর দায় কার?

যে বোন তার সৌন্দর্যকে বাইরে প্রদর্শন করছে তার পিতা, ভাই, মাতা তারা কোথায়??? তাদের কেউ হয়তো মাছ ধরছে, আর কেউ ক্যাফেতে বসে অন্য নারীদের দেখছে।

আজকাল বারবিকিউ পার্টিতে আমার স্ত্রী, আপনার স্ত্রী, আরেকজনের স্ত্রী সবাই একসাথে বসে মাতামাতি করে, এবং একসাথে বসে খাবার খায়, একজন অন্যজনের স্ত্রীর সাথে হাসাহাসি করে। আর এটাকে কি বলে?

"আধুনিকতা"

এগুলো আধুনিকতা নয় বরং অসভ্যতা। যদি একজন প্রকৃত পুরুষ থাকতো তবে এগুলো হারাম কি না কখনোই জিজ্ঞেস করত না।


দুজন স্ত্রীর সাথে রাসুল (সাঃ) বসে ছিলেন আর হঠাৎ করে দরজায় কেউ কড়া নাড়ে। রাসুল (সাঃ) গিয়ে দেখলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাকতুম (রাঃ) এসেছেন। তিনি অন্ধ ছিলেন। তার একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে "সূরা আবাসা" এর প্রথম কয়েকটি আয়াত নাযিল হয়। তিনি কিন্তু চোখে দেখেন না। তাকে দেখে রাসুল (সাঃ) তার স্ত্রীদের বললেন, "আব্দুল্লাহ এসেছে, তোমরা পর্দার ওপাশে যাও।" তারা বললেন- "হে আল্লাহর রাসূল, সে তো অন্ধ, আমাদের দেখতে পাবে না।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা তো অন্ধ নও, তোমরা তো তাকে দেখতে পাবে।"

আপনার বাবাকে এটা বললে সে আপনার শায়েখকে থাপ্পর মেরে বলবে এগুলো সেকেলে চিন্তাভাবনা। আমি সেই সাহাবীকে যথাযথ সম্মান দিয়ে বলি, আমি মনে করি না আব্দুল্লাহ (রাঃ) রাসুল (সাঃ) এর মত হ্যান্ডসাম ছিলেন। আর তাছাড়া রাসুল (সাঃ) এর স্ত্রী হতে পারলে আর কারো দিকে তাকানোর কোন প্রয়োজনই নেই। কিন্তু আসল ব্যাপার হলো সম্মানবোধ। একজন প্রকৃত পুরুষ লজ্জাশীল হন, তার মাঝে লাজুকতা থাকে।

আজ আমাদের নারীদের মাঝে লাজুকতা নেই। আজকাল বোনেরা নিজেদেরকে উপস্থাপন করার জন্য শুধু প্ল্যাটফর্ম খুঁজে। না! আমি এখানে হালাল-হারামের কথা বলছি না, কিন্তু লজ্জাশীলতা কোথায়?

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাঁর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) কে নিয়ে বসে ছিলেন, আর হাদিসের ভাষ্য অনুসারে তার পায়ের একটা অংশ একটু বের হয়েছিল। কেউ একজন দরজায় কড়া নাড়ে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আয়েশা দেখ তো কে?"

আয়েশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, উনি আমার পিতা আবু বকর। রাসুল (সাঃ) বললেন, তাকে ভেতরে আসতে বল। আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠিক আগের মতোই বসে রইলেন।

একটু পর আবার কেউ একজন দরজায় কড়া নাড়ে। রাসূল (সাঃ) বললেন, "আয়েশা দেখ তো কে?"

আয়েশা (রাঃ) বললেন, ওমর ইবনুল খাত্তাব এসেছেন। আহ্!! আপনার দরজায় এইরকম পুরুষেরা করা নাড়লে কেমন হতো? রাসুল (সাঃ) বললেন, তাকে ভেতরে আসতে বল এবং তিনি ওই অবস্থাতেই রইলেন।

আরো কিছুক্ষণ পর আবারো দরজায় কেউ একজন কড়া নাড়ে। রাসূল (সাঃ) বললেন, "আয়েশা, দেখ তো কে এলো?"

আয়েশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, উসমান (রাঃ) এসেছেন। এবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তার পোষাক ঠিক করলেন। এরপর বললেন, আয়েশা, তাকে ভেতরে আসতে বল।

আয়েশা (রাঃ) ছিলেন সবচেয়ে বড় ইসলামিক স্কলার। সবাই চলে যাওয়ার পর তিনি বললেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার পিতা এলে আপনি বসে রইলেন, ওমর এলে আপনি বসে রইলেন, কিন্তু উসমান আসার সাথে সাথে আপনি নিজেকে ঠিক করে নিলেন যে?

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার কি তার প্রতি লজ্জাশীল হওয়া উচিত নয়, যার প্রতি ফেরেশতারাও লজ্জাশীল?

এটাই লজ্জাশীলতা। আর আজকে আমাদের মধ্যে কোন লজ্জা নেই।

আজকে আপনি চুপচাপ থাকলে সত্যিকারের পুরুষ নন। কারণ প্রকৃত পুরুষেরা চিৎকার চেঁচামেচি করবে। আমাদেরকে প্রকৃত পুরুষে পরিণত হতে হবে, এই উম্মাহতে পুরুষের অনেক অভাব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সহায় হোন।

পোস্টটি যে কোন সোশাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন।

"কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াব এর অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবে না" [সহিঃ মুসলিম- ২৬৭৪]

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url